
কলকাতা, ৮ আগস্ট : ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে বাংলার এক স্মরণীয় বিপ্লবী কমলা দাশগুপ্ত। ১৯০৭ সালে ঢাকার বিক্রমপুরে এক বৈদ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
ঠিক ১০০ বছর আগে তিনি ছিলেন ঢাকার ব্রাহ্মবালিকা শিক্ষালয়ের ছাত্রী। ১৯২৪ সনে সেখান থেকে তিনি প্রবেশিকা পাশ করেন। এর পরে তার পরিবার কলকাতায় আসেন। তিনি বেথুন কলেজে ভর্তি হন। ১৯২৮ সনে বেথুন কলেজ থেকে বি.এ, পাশ, পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে ইতিহাসে এম.এ পাস করেন।
এম.এ শ্রেণির ছাত্রাবস্থায় তিনি রাজনৈতিক মনস্ক হয়ে ওঠেন। সে সময় ‘যুগান্তর’ দল এর কতিপয় সদস্যের সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। তিনি বিপ্লবী দীনেশ মজুমদারের কাছে লাঠিখেলা শিখতে আরম্ভ করেন। ১৯২৯ সালে যুগান্তর দলের নেতা রসিকলাল দাসের প্রেরণায় গান্ধীর অহিংসবাদ ছেড়ে সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য ‘যুগান্তর’ দলে যোগ দেন।
সহপাঠী হিসাবে ছিল কল্যাণী দাস। তিনি বীণা দাসকে রিভলবার সরবরাহ করেন যা দিয়ে তিনি ফেব্রুয়ারি ১৯২২ সালে গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে হত্যার চেষ্টা করেন। তিনি বোমা হামলার সাথে জড়িত থাকার কারণে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হন কিন্তু প্রমাণের অভাবে প্রত্যেক সময় মুক্তি পান। ১৯৩২-৩৮ তিনি প্রেসিডেন্সি ও হিজলী বন্দী নিবাসে আটক থাকেন। হিজলি বন্দি নিবাসে বন্দি থাকা অবস্থায় তিনি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন।
১৯৩০ সালে তিনি বাড়ি ছেড়ে দরিদ্র নারীদের জন্য একটি হোস্টেলের ম্যানেজার হিসেবে চাকরি নেন। সেখানে তিনি বিপ্লবীদের জন্য বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতেন এবং বহন করে আনতেন। ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে যোগ দিয়েও কারাবাস করেছেন তিন বছর (১৯৪২-৪৫)। দাংগা বিধ্বস্ত নোয়াখালীতে ত্রানের কাজ করেছেন এই বিপ্লবী।
কর্মজীবনে শিক্ষকতা ছাড়াও ‘মন্দিরা’ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন কমলা দাশগুপ্ত। দেশ ভাগের পরে লিখেছিলেন তাঁর আত্মজীবনী ‘রক্তের অক্ষরে’। ১৯৫৪ সালে এটি প্রকাশিত হয়। তিনি পরে লিখেছিলেন ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার নারী’ (১৯৬৩) নামে আরও একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ। গ্রন্থ দুটিতে তাঁর বিপ্লবী ও রাজনৈতিক জীবনের নানা বিষয় উঠে এসেছে। কমলা দাশগুপ্ত ২০০০ সালের ১৯ জুলাই মারা যান।
