
কলকাতা, ১৮ অক্টোবর : পুলিশ অথবা জেল হেফাজতে গেলে ক্ষমতাবান প্রায় সবারই অসুস্থতা শুরু হয়। চেষ্টা করেন হাসপাতালে ভর্তি হতে। যেমনটা হয়েছিল নিয়োগ মামলায় অভিযুক্ত ‘কালীঘাটের কাকু’র। অগস্ট মাসে অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি হাসপাতালেই।
সত্যিই এতদিন তাঁর হাসপাতালে থাকা প্রয়োজন কি না, তা খতিয়ে দেখতে বুধবার আচমকা হাসপাতালে হাজির হলেন ইডির কর্তারা। বোঝার চেষ্টা করলেন, হৃদ্রোগের চিকিৎসায় এত দিন ধরে তিনি হাসপাতালে কেন? এখনও কিসের অসুখ তাঁর?
সুজয়কৃষ্ণকে গত ৩০ মে গ্রেফতার করেছিল ইডি। তার পর ইডি হেফাজত শেষে তাঁকে জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু সুজয় জেলে যাওয়ার পর থেকে তাঁকে আর এক দিনও জেরা করতে পারেননি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা।
প্রথম যে দিন তদন্তের প্রয়োজনে সুজয়কৃষ্ণকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এসেছিলেন তাঁরা, সে দিনই মৃত্যু হয় তাঁর স্ত্রীর। ফলে জেরা করা যায়নি। তার পর দীর্ঘ প্যারোল এবং প্যারোলের মেয়াদ শেষ হতে না হতেই সুজয়কৃষ্ণর অসুস্থতা— সব মিলিয়ে তাঁর নাগাল না পাওয়ায় কিছুটা প্রভাব তদন্তেও পড়ছে বলে ইডি সূত্র খবর।
এর মধ্যে ইডির উপরও নিয়োগ মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার চাপ আসছে। তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতার জন্য কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতিদের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হচ্ছে ইডিকে। সম্প্রতিই লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস সংক্রান্ত মামলাতেও বিচারপতি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ইডিকে। আর এই মামলারই অন্যতম সূত্র সুজয়। কারণ তিনি ওই সংস্থার প্রাক্তন কর্মী। এই পরিস্থিতিই মঙ্গলবার দুর্গাপুজোর তৃতীয়ার দিন এসএসকেএমে চমক পরিদর্শনে হাজির হন ইডির কর্তারা।
