
কলকাতা, ২৮ জুলাই: অন্তর্বর্তী জামিন চান সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু। সেই সঙ্গে এসএসকেএম হাসপাতালে নয়, চিকিৎসা করাতে চান বেসরকারি হাসপাতালে। নিম্ন আদালতের এ ব্যাপারে দুই নির্দেশের বিরুদ্ধে এই আরজি গৃহিত হল শুক্রবার। মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। আগামী সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা।
নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ সুজয়কৃষ্ণ। গতকাল বৃহস্পতিবার নিম্ন আদালত নির্দেশ দিয়েছিল চিকিৎসা করাতে হবে এসএসকেএম। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা এবং অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ সুজয়কৃষ্ণ।
কালীঘাটের কাকুর দাবি, তিনি হার্টের অসুখে ভুগছেন। ধমনীতে তিনটি ‘ব্লকেজ’ধরা পড়েছে। বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তাঁকে তাঁর পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের অনুমতির জন্য অন্তর্বর্তী জামিন চেয়ে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে আর্জি জানালেন তিনি। মামলা তালিকাভুক্ত হওয়ার পর আগামী সপ্তাহে এর শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের অনুমতির জন্য বৃহস্পতিবারই নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন। তাঁর আর্জি খারিজ করে দেন বিচারক। সুজয়কৃষ্ণের আইনজীবী গতকাল আদালতে মেডিক্যাল রিপোর্ট পেশ করেন।
আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল ২০১১ সাল থেকে হার্টের সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর হার্টের যে ধরনের অপারেশন প্রয়োজন, সেটির সাফল্যের হার খুবই কম। সুজয়কৃষ্ণের হার্টের সমস্যা রয়েছে। তাঁর আইনজীবী সেলিম রহমান জানিয়েছেন, সুজয়কৃষ্ণের ধমনীতে তিনটি ‘ব্লকেজ’ ধরা পড়েছে।
‘বাইপাস সার্জারি’ করা হতে পারে তাঁর। শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে নিয়োগ মামলায় জামিন জানান ইডির হাতে ধৃত জেল হেফাজতে থাকা সুজয়কৃষ্ণ।
আদালতে পাল্টা ইডির আইনজীবী বলেন, এসএসকেএমের উপর ভরসা রাখতে পারছেন না? এসএসকেএমের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর মুখ্যমন্ত্রী ভরসা রাখেন। নিজের কোনও সমস্যা হলে তিনি চিকিৎসা করাতে এসএসকেএমকে যান। সুজয়কৃষ্ণ যদি অপরেশন করতে চান তাহলে তো এসএসকেএমকেই করা ভালো।
ইডি-র দাবি, ১৬ দিন তিনি প্যারোলে মুক্ত ছিলেন। তখন তাঁর হার্টের কিছু হয়নি। রাজনৈতিক চাপে বিভিন্ন সময় সরকারি হাসপাতাল সাজানো রিপোর্ট তৈরি করে। তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণও রয়েছে। জামিনের আবেদন খারিজ করার আর্জি জানান ইডির আইনজীবী।
