
কলকাতা, ১২ ডিসেম্বর : রাজ্যজুড়ে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে বারবারই প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে বিচারপতি অমৃতা সিনহাকে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া মন্তব্য করতে শোনা গেছে। যত দ্রুত সম্ভব সেইসব নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশও দেয় হাইকোর্ট। কিছু ক্ষেত্রে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চেও মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যের একটি বেআইনি নির্মাণ নিয়ে ফের হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়ল পুরসভা।
একাধিক জায়গায় বেআইনি নির্মাণ নিয়ে মামলা হয়েছে হাইকোর্টে। উলুবেড়িয়া, কলকাতা পুরসভা এলাকার একাধিক বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা। এমনকী বেআইনি নির্মাণ ভাঙার জন্য বুলডোজার আনারও পরামর্শ দিতে শোনা গেছে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে।
ব্যারাকপুর উত্তর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্বপনকুমার দেবনাথ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা পুরসভায় অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগ পেয়ে গত ২ জানুয়ারি পুরসভার লোকজন ঘটনাস্থলে যান। মাপজোক করে দেখেন, ওই নির্মাণের ১২৪.৫৯ স্কোয়ার মিটার বেআইনি। কিন্তু তারপরও সেই নির্মাণ ভাঙার কোনও উদ্যোগ দেখায়নি পুরসভা এমনই অভিযোগ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন স্বপনবাবু।
মঙ্গলবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানির সময়, মামলাকারীর অভিযোগ শুনে বিচারপতি পুরসভার প্রতিনিধিকে প্রশ্ন করেন, কেন ভাঙা হয়নি? সেই প্রশ্নের উত্তরে পুরসভার পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের পক্ষে ওই নির্মাণ ভাঙা সম্ভব নয়। ভাঙতে গেলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ তৈরি হবে।
শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি মন্তব্য করেন, 'কোথাও কোনও বেআইনি নির্মাণ থাকতে পারে না। আইন মেনে ভাঙতে হবেই।' তারপরই তিনি নির্দেশ দেন, বেআইনি নির্মাণ এবং দখলদারি উচ্ছেদ করতে সব রকম পদক্ষেপ নেবে পুলিশ। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এবং নোয়াপাড়া থানাকে ভাঙার কাজ শুরু করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। আগামী ২৪ জানুয়ারি আদালতে রিপোর্ট দিতে বলেন বিচারপতি সিনহা।
