kolkata

2 years ago

Jadavpur University Student Death: যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুতে গ্রেফতার আরও এক প্রাক্তনী, ছেলে জড়িত হলে কড়া শাস্তি চান ধৃত জয়দীপের বাবা

Jadavpur University Student Death
Jadavpur University Student Death

 

কাটোয়া, ২০ আগস্ট  : যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন আরও এক প্রাক্তনী। ঘটনার রাতে (৯ আগস্ট) যাদবপুর মেন হোস্টেলের গেট আটকে পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শনিবার রাতে যাদবপুরের প্রাক্তনী জয়দীপ ঘোষকে গ্রেফতারর করে যাদবপুর থানায় পুলিশ । তার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের কাঁদরা স্টেশন রোডের কাছে । পরিবারের কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে এধরনের নৃশংস ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন তাঁদের ছেলে। তবে যদি সত্যিই ছাত্রমৃত্যু বা পুলিশকে বাধা দেওয়ার মতো ঘৃন্য কাজের সঙ্গে জয়দীপের যোগাযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তার কঠোর শাস্তি চান বাবা বংশীলাল ঘোষ।

‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ বিষয়ের ছাত্র জয়দীপ ২০২১ সালে যাদবপুর থেকে পাস করে। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামে। একসময় চায়ের দোকানে কাজ করতেন জয়দীপের বাবা বংশীলালবাবু। পরে বাড়ি লাগোয়া মিষ্টির দোকান খুলেছেন। অর্থের অভাবে নিজে বেশিদূর পড়াশোনা করতে পারেননি, কিন্তু দুই ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন। ছেলেরাও বাবার স্বপ্ন অনেকাংশ পূর্ণ করেছেন। বড় ছেলে শুভদীপ যাদবপুর থেকেই তুলনামূলক সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেছেন। নেটও পাস করেছেন। আপাতত টিউশন করেন। আপাতত দুই ভাই যাদবপুর থানার অন্তর্গত বিক্রমগড়ে আলাদা বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাঁদের মা উত্তরাদেবী দীর্ঘদিন ধরে নার্ভের অসুখে ভুগছেন। একেবারে শয্যাশায়ী। ছেলেদের ভাড়াবাড়ি বা মেসে রেখে তাঁর চিকিৎসা করানো হত।

৯ আগস্টের রাতের ঘটনা সম্পর্কে জয়দীপ বাড়িতে জানিয়েছিলেন বলে দাবি বাবা বংশীলাল ঘোষের। তিনি বলছেন, হস্টেলে খারাপ ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রটির যাতে ভাল চিকিৎসা হয়, তার জন্য হাসপাতালেও নিয়েছিলেন জয়দীপ। বাবার সঙ্গে নিয়মিত কথা হত ছেলের। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি চান বলেও বাবাকে জানিয়েছিলেন জয়দীপ। গত ১৭ আগস্ট কেতুগ্রামের বাড়িতে ফিরেছিলেন। কিন্তু ১৮ আগস্টও ফের কলকাতায় ফিরে আসেন। কারণ সংবাদমাধ্যম মারফত তিনি জানতে পারেন, পুলিশ তাঁকে ডাকতে পারে। এরপর ১৯ আগস্ট রাতে ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানতে পারেন বংশীলাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “ছেলে কোনওভাবেই এধরনের কাজে যুক্ত থাকতে পারে না। আর যদি সত্যিই যোগসাজশের প্রমাণ মেলে তাহলে ছেলের কড়া শাস্তি হোক।”

জয়দীপের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাদবপুর এলাকার বিক্রমগড়ে ভাড়া থাকা সত্ত্বেও হস্টেলে বেআইনিভাবে প্রায়শই থাকত সে । ঘটনার রাতে নিজেই কয়েকজনকে নিয়ে তিনি গেট বন্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ। রাতে হস্টেলে ঢুকতে দেওয়া হয় পুলিশকেও। জয়দীপের গ্রেফতারের পর যাদবপুরকাণ্ডে ধৃতের সংখ‌্যা বেড়ে হল ১৩।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে হেনস্তা করা হয়েছিল। সেই সময় জয়দীপ ঘোষ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। এমনকী, ছাত্র আন্দোলনের একেবারে সামনের সারির সদস্য ছিলেন তিনি। এসএফআইয়ের সক্রিয় সদস্য প্রাক্তনী জয়দীপের আনাগোনা ছিল হস্টেলেও। তবে কি সত্যিই পুলিশকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত শান্তশিষ্ট জয়দীপ? উত্তর খুঁজছে কেতুগ্রামের কাঁদরা এলাকার বাসিন্দারা।

You might also like!