
কলকাতা, ৭ আগস্ট : গত ছয় বছরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই প্রকল্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়েছেন ৬০ লাখ মানুষ ।
স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিত্সা ছাড়াই লোকেদের ফিরে আসতে হয়েছে। এরপর এই প্রকল্পের জন্য প্রচুর সমালোচনাও হয়েছিল । তবে স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করেছে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া এটি একটি খুব সফল প্রকল্প।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুই কোটি ৪৩ লাখ পরিবার স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের সুবিধা পেয়েছে। এই যোজনায় সরকার ক্যান্সার ও হৃদরোগীদের চিকিৎসায় বেশি খরচ করেছে।
এ প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্যে এই প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা কম নেই। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলি স্বাস্থ্য সাথী কার্ড গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয় বলে অভিযোগ ছিল। এর ফলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলেও এর সুফল পাওয়া যায় নি। এই ইস্যুতে হাসপাতালগুলির সঙ্গে বারবার কথা বলে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে রাজ্য সরকার। আসলে আগে ক্যান্সার, হার্টসহ অনেক রোগের চিকিৎসা ধীরে ধীরে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু লাখ লাখ মানুষ এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে নয় কোটি মানুষ এই কার্ড পেয়েছেন। আর উপকৃত হয়েছে দুই কোটি ৪৩ লাখ পরিবার।
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে স্বাস্থ্য সাথী সম্পর্কিত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে জানা গিয়েছে, এখও পর্যন্ত এই স্বাস্থ্য সাথীর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ক্যানসার কেযারে খরচ হয়েছে। ৯ হাজার কোটির মধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে শুধুমাত্র কন্যানসার চিকিৎসায়। এরপরেই রয়েছে হৃদযন্ত্রের চিকিৎসা। এখানোও প্রায হাজার কোটির কাছাকাছি খরচ হয়েছে। এছাড়াও স্নায়ু চিকিৎসা, ডায়ালিসিস ও অন্যান্য একাধিক ক্ষেত্রে তো রয়েছেই। যত সময় যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে স্বাস্থ্যসাথী। তাই রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও স্বাস্থ্যসাথীর বরাদ্দ্ আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
সরকারী পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ পর্যন্ত প্রতিমাসে দেড় লক্ষ রোগীর বিল মেটাতো রাজ্য সরকার। এর জন্য প্রায় খরচ হত ২০০ কোটি টাকার মতো। সামগ্রিকভাবে ১২ মাসের খরচ ২ হাজার ৪০০ কোটি হলেও বাজেট বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু প্রত্যেকদিনই এই প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা বাড়ছে। আর সেই কারণেই বাড়ানো হচ্ছে বার্ষিক খরচও। স্বাস্থ ভবন মনে করছে বছরের শেষে এই খাতে খরচ প্রায় তিন হাজার কোটির কাছাকাছি চলে যেতে পারে।
