
কলকাতা, ৬ অক্টোবর : সকাল থেকে সন্ধ্যা, রাত পেরিয়ে ভোররাত-রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রথীন ঘোষের বাড়িতে প্রায় সাড়ে ১৯ ঘন্টা ধরে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা নাগাদ রথীনের মাইকেলনগরের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। আর শুক্রবার ভোররাত পৌনে ২টো নাগাদ খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের উত্তর ২৪ পরগনার মাইকেলনগরের বাড়ি থেকে বেরোন ইডি-র আধিকারিকেরা। বেরোনোর সময় মন্ত্রীর অনুগামী তথা তৃণমূল সমর্থকদের ভিড় ইডি-র উদ্দেশে ধিক্কার স্লোগান দিতে থাকে। আধিকারিকদের বার হতে অসুবিধা হচ্ছে দেখে রথীন নিজে অবশ্য এসে তাঁদের বাইরে বেরোতে সহযোগিতা করেন।
ভোররাতে ইডি-র দল তাঁর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রথীন, তিনি বলেন, “ইডি আধিকারিকেরা আমার সঙ্গে কোনও খারাপ ব্যবহার করেননি। তবে পুরসভায় নিয়োগ নিয়ে তাঁদের ধারণায় অনেক গন্ডগোল আছে। তাঁরা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া তদন্ত হয়েছে তা আদালতের নির্দেশে ছিল। ওই সময় আমি চেয়ারম্যান ছিলাম, তাই আমার বাড়িতে আসেন। আমার নথি যাচাই করা হয়, এর মধ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে।” তিনি নিজে একটি বই দিয়ে ইডির তদন্তে সহযোগিতা করেছেন বলে দাবি রথীনের। তিনি আরও বলেন, “সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই তল্লাশি। আমাকে হেনস্থা করতেই বাড়িতে এসেছিলেন ইডি আধিকারিকেরা।” নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও নথি তাঁর বাড়ি থেকে পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেছেন খাদ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ দিন ধরে মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন রথীন। ইডি সূত্রের খবর, পুর নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় ধৃত অয়ন শীলের সংস্থা এবিএস ইনফোজ়োনের অফিস থেকে বাজেয়াপ্ত করা বিভিন্ন নথিতে রথীনের নাম বার বার উঠে এসেছে। ইডির দাবি, ২০১৪-র পর থেকে পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। তার ভিত্তিতেই এই অভিযান। টাকা কাদের কাছে পৌঁছেছে, কীভাবে পৌঁছেছে, সেই খতিয়ে দেখাই তাদের উদ্দেশ্য। রথীনের বাড়ি ছাড়াও বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম পুরসভার দফতরে হানা দেন ইডির আধিকারিকেরা। এ ছাড়াও ১০ থেকে ১২টি দলে ভাগ হয়ে বরাহনগর, সল্টলেক-সহ মোট ১২টি জায়গায় তাদের তল্লাশি অভিযান চলেছে।
