
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোরবেলায় তাঁর বাবা, তথা রাজ্য সরকারের এক প্রাক্তন আমলাকে সঙ্গে নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হলেন ইমন গঙ্গোপাধ্যায়। ইমনের বাবা বিভাস গঙ্গোপাধ্যায় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের আমলা ছিলেন। তাই নিয়োগ দুর্নীতিতে ইমন এবং তাঁর বাবার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা জানতেই তলব করেছিল ইডি।
ইমনকে চিঠিতে বলা হয়েছিল সকাল ১০টায় আসতে হবে। তিনি এসে হাজির হলেন এদিন সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদই। অনেক পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হয়। এনফোর্সমেন্ট ডিরক্টরেটের তরফে দাবি করা হয়েছিল, অয়নের ছেলে অভিষেকের সঙ্গে দু’টি সংস্থায় যৌথ অংশীদারি রয়েছে ইমনের। শুধু তাই নয়, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে হুগলিতে এক কোটি টাকা দিয়ে অভিষেক ও ইমনের নামে একটি জমিও কিনেছিলেন অয়ন শীল।
হুগলির উত্তর পাড়ার বাসিন্দাতরুণী ইমন ইতিমধ্যেই নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত অয়ন শীলের পুত্রের ‘বান্ধবী’ বলে পরিচিত। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইডি জানতে পেরেছিল, অয়ন-পুত্র অভিষেক শীলের বান্ধবী ইমনের সঙ্গে যৌথ ভাবে বহু সম্পত্তি কেনা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই সেই সম্পত্তির অর্থ ব্যয় হয়েছে অয়নের অ্যাকাউন্ট থেকেই। অয়নের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি থেকেও পাওয়া যায় ইমনের নাম।
ইমনের নাম অয়নের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে বহু নথিতে পেয়েছে ইডি। ইমন এবং অভিষেক যৌথ মালিকানায় একটি পেট্রল পাম্প কিনেছিলেন বলে হলফনামায় জানিয়েছিল ইডি। হুগলি জেলার গুড়াপে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে প্রায় সাড়ে ৩ বিঘা জমির উপর সেই পেট্রল পাম্প কেনার যাবতীয় নথি আনন্দবাজার অনলাইনের হাতে আসে। সরকারি সিলমোহর থাকা ওই নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে ১ কোটি টাকায় পেট্রল পাম্পটি কেনা হয়েছিল। অভিষেক এবং ইমন সেটি কিনেছিলেন কলকাতার বিডন স্ট্রিটের বাসিন্দা নন্দগোপাল শুক্ল, অজয় শুক্ল এবং আশিস শুক্লর কাছ থেকে। স্থানীয়দের কাছে পাম্পটি ‘শুক্ল পাম্প’ নামেই পরিচিত। আবার, কলকাতায় বন্ডেল রোডের উপরে অভিষেক এবং ইমন যৌথ মালিকানায় একটি ফার্মও খুলেছিলেন। তার নাম দিয়েছিলেন ‘ফসিল্স’। বুধবার এই সব নথি নিয়ে ইমনের বক্তব্য জানতেই তাঁকে ডেকে পাঠায় ইডি।
