
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:নদিয়ার শান্তিপুরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও জাগ্রত কালীপুজো হিসেবে পরিচিত বোম্বাট কালীমাতার আরাধনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৬ সালে স্বাধীনতার ঠিক আগের বছর শান্তিপুরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে এই পুজোর সূচনা করেন। কোনও নির্দিষ্ট পাড়া বা মহল্লার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে এই পুজো হয়ে ওঠে গোটা শান্তিপুরের মানুষের মিলিত উদ্যোগ। প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, সেই সময় শান্তিপুর ও সংলগ্ন এলাকায় নানা অসামাজিক কাজকর্ম এবং অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে শান্তিপুরের কয়েকজন বিশিষ্ট ও অরাজনৈতিক ব্যক্তি ‘বোম্বাট মিলিটারী গ্রুপ’ গঠন করেন। পরবর্তীকালে এই উদ্যোগের সঙ্গেই জড়িয়ে পড়ে বোম্বাট কালীপুজোর সূচনার কাহিনি।
এই গ্রুপের মাধ্যমেই তখনকার অস্থির পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয় এবং তারা তাতে সফল হন। এই পুজোর নিয়ম-নীতি অন্যান্য পাঁচটা পুজোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে গভীর রাতে তন্ত্রমমতে পুজো হয়। মায়ের প্রতিমার কাঠামো দেখলেই বোঝা যায় যে অন্যান্য প্রতিমার থেকে এর গঠনতন্ত্র সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর মূল ভিত্তি শিব ঠাকুরের বুকের ওপর অবস্থিত। শিব ঠাকুরের বুক ও রূপ সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর পুজোও ভিন্ন মতে হয়। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বামা মায়ের পুজো ও নাচ বিশ্ববাসী দেখতে পান। ভক্তরা তাঁকে প্রণাম জানান। বহু বছর পরে এই স্বপ্নাদেশেই সেখানে পুজোর সূচনা হয়েছিল।
শান্তিপুরের ‘ডাকাতে কালী’ বা বোম্বাট কালীর মশালেরও এক ঐতিহাসিক উৎপত্তি রয়েছে। প্রতিবছর আইনের মেনে এই পুজোর সময় মশাল বের হয়। বর্তমান বিধায়ক স্বপন কুমার দাসের সহযোগিতাও এই পুজোয় রয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমানে নরমুণ্ডগুলি সম্পূর্ণ আসল এবং সেই সময়ের পুজোর শুরু থেকেই এই আসল নরমুণ্ড রেখেই তন্ত্রমমতে মায়ের আরাধনা ও পুজো হয়ে আসছে। যাতে শান্তিপুরকে বিভিন্ন সমস্যা থেকে রক্ষা করা যায়।
