
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ ইউরোপীয় ট্রেবল জিততে অবশ্য ঘরোয়া লিগের সঙ্গে ঘরোয়া কাপ এবং মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হতে হয়। শেষ হতে চলা ২০২২-২৩ মৌসুমে ট্রেবল জয়ের একমাত্র সুযোগ ম্যানচেস্টার সিটির সামনে। পেপ গার্দিওলার সিটি এরই মধ্যে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে।
৩ জুন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে এফএ কাপ এবং ১০ জুন ইন্টার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল। আগামী ১০ দিনে হতে যাওয়া ফাইনাল দুটি জিতলে ম্যানচেস্টার সিটি হবে ট্রেবলজয়ী দ্বিতীয় ইংলিশ ক্লাব আর গার্দিওলা হবেন দুবার ট্রেবলজয়ী একমাত্র কোচ।
সিটি আর গার্দিওলা ট্রেবলের গল্পে নাম লেখাতে পারবেন কি না, আপাতত অজানা। তবে ইউরোপীয় ফুটবলে এমন অর্জন যে সহজ কিছু নয়, তার সাক্ষ্য দিচ্ছে ট্রেবলের ঘটনা এখনো এক অঙ্কে আটকে থাকা। এখন পর্যন্ত সাতটি দল ৯ বার ট্রেবল জিততে পেরেছে। যেখানে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের দল আছে ৫টি।
কারা কবে কীভাবে ট্রেবল জিতেছিল, সেটিই দেখে নেওয়া যাক :
সেল্টিক:
তিনটি নয়, সেল্টিক সেবার চারটি ট্রফি জিতেছিল। স্কটিশ লিগের পাশাপাশি স্কটিশ কাপ, স্কটিশ লিগ কাপ এবং ইউরোপিয়ান কাপ। উয়েফা আয়োজিত তখনকার সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা ছিল ইউরোপিয়ান কাপ, সেল্টিক ছিল এই টুর্নামেন্টজয়ী প্রথম ব্রিটিশ ক্লাব।
জক স্টেইনের অধীন খেলা সেল্টিক ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমের লিগ জেতে রেঞ্জার্সের চেয়ে ৩ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে। একই ক্লাবকে লিগ কাপের ফাইনালে হারায় ১-০ ব্যবধানে। এরপর অ্যাবারডিনকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করে ঘরোয়া ট্রেবল। তবে সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল ইউরোপিয়ান কাপে।
লিসবনে ফাইনালে সেল্টিকের প্রতিপক্ষ ছিল ইন্টার মিলান। ম্যাচের ৬ মিনিটেই পেনাল্টি থেকে করা গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার। ম্যাচ ঘণ্টার কাঁটা পার হওয়ার কিছুক্ষণ পর সমতা আনে সেল্টিক। ৮৪ মিনিটে স্কটিশ ক্লাবটিকে শিরোপা জেতানো গোলটি এনে দেন স্টিভি চালমার।
আয়াক্স:
ঠিক আগের বছরই ওয়েম্বলিতে গ্রিক ক্লাব প্যানাথিনাইকোসকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল আয়াক্স। ইয়োহান ক্রুইফের দল ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতার ট্রফি জিতেছে পরের বছরেও। তবে মাঝের ১৯৭১-৭২ মৌসুমটাই আয়াক্স ইতিহাসে বেশি স্মরণীয়। ডাচ ক্লাবটির জেতা একমাত্র ট্রেবল এসেছিল এ মৌসুমেই।
প্রথমে মুঠোয় আসে ডাচ লিগ এরেডিভিসির শিরোপা। মৌসুমের সর্বশেষ ২৭ ম্যাচের ২৬টিতে জিতে দাপটের সঙ্গে লিগ জেতে স্টেফান কোভাচের দল। এফসি ডেন হাগকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে আসে কেএনভিবি কাপের ট্রফি।
ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল সেল্টিকের মতোই, ইন্টার মিলান। ফেইনুর্ডের দি কুইপ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে অবশ্য জিততে কোনো বেগই পেতে হয়নি আয়াক্সকে। ক্রুইফের জোড়া গোলের সুবাদে ২-০ ব্যবধানে জিতে ট্রেবল জয় করে আয়াক্স।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড:
১৯৯২ সালে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর পর থেকেই দাপট দেখিয়ে আসছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে সাফল্য পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৯৯৯ পর্যন্ত। সেবার আর্সেনালের চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে থেকে প্রিমিয়ার লিগ জেতে ইউনাইটেড, আর এফএ কাপ জেতে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল বায়ার্ন মিউনিখ। মৌসুমজুড়ে ইউনাইটেডের আক্রমণভাগের নেতা অ্যান্ড্রু কোল আর ডোয়াইট ইয়র্কে হলেও ফাইনালে নায়ক হয়ে ওঠেন টেডি শেরিংহাম ও ওলে গুনার সুলশার।
বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ৬ মিনিটেই মারিও বাসলারের গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। এই ১-০ ব্যবধান পূর্ণ হয়ে ৯০ মিনিটও। তবে যোগ করা সময়ে ৯১তম মিনিটে শেরিংহাম আর ৯৩তম মিনিটে শোলসার গোল করে ইউনাইটেডকে এনে দেন ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয়। প্রথম ইংলিশ ক্লাব হিসেবে ট্রেবল জেতে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল।
বায়ার্ন মিউনিখ:
বায়ার্নের এই ট্রেবল জয়ে আছে দর্শকের সঙ্গে উদ্যাপন করতে না পারার দুঃখ। ২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়, পরে শুরু হলেও স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে দর্শকবিহীন। গ্যালারির সামনেই ডর্টমুন্ডের চেয়ে ১৩ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে বুন্দেসলিগা জেতে বায়ার্ন। হান্সি ফ্লিকের দলটি জার্মান কাপ জেতে বায়ার লেভারকুসেনকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে।
মহামারির কারণে বিশেষ সতর্কতায় আয়োজিত এ বছরের চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ তিন রাউন্ড ছিল এক লেগের। যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনাকে ৮-২ আর সেমিফাইনালে লিওঁকে ৩-০ ব্যবধানে ফাইনালে ওঠে বায়ার্ন। শিরোপা নির্ধারণীতে প্রতিপক্ষ ছিল পিএসজি। ৫৯ মিনিটে ফরাসি ফরোয়ার্ড কিংসলি কোমানের দেওয়া গোলে ১-০ ব্যবধানে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে বায়ার্ন, জেতে দ্বিতীয় ট্রেবলও।
