
নয়াদিল্লি, ১৬ জানুয়ারি : ভোটদাতা-তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) পশ্চিমবঙ্গে তুলকালাম চলছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার চলতি পর্যায়ের সূচি বদল করে হল ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, সূচির বদল হল আরও চার অঞ্চলে। তিন ধাপে দেশে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল— প্রাক এনুমারেশন, এনুমারেশন এবং এনুমারেশন-পরবর্তী পর্যায়। বৃহস্পতিবার বেশি রাতে কমিশনের তরফে এই পর্বের সূচীবদলের কথা ঘোষণা করা হয়। যুক্তি হিসাবে কমিশন নির্দেশিকায় লিখেছে, “আপনাদের অনুরোধ এবং পারিপার্শ্বিক বিষয়সমূহ বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া গোয়া, লাক্ষাদ্বীপ, পুদুচেরি রাজস্থান— এই চার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককেও পাঠানো হয়েছে কমিশনের চিঠি। কমিশনের অবরসচিব সন্দীপ কুমার লিখেছেন, “এই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকার (২৩/২০২৫/ইআরএস) গেজেট বিজ্ঞপ্তি করে দ্রুততার সঙ্গে যেন তিনটি প্রতিলিপি পাঠানো হয় কমিশনের দফতরে। আবেদনকারীদের দাবির শুনানি এবং বিষয়সমূহের মেয়াদবৃদ্ধির এই ঘোষণা যেন সিইও-রা ব্যাপক প্রচার করেন। সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্তরা যেন সকলে এই সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলেন।” গত বছর ২৭ অক্টোবর দ্বিতীয় পর্বের এসআইআর-এর ঘোষণা করে কমিশন।
দুই নির্বাচন কমিশনার, এসএস সান্ধু বিবেক যোশীকে পাশে বসিয়ে দেশের ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) চালুর ঘোষণা করে এই বার্তা দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর ঘোষণা, ‘‘বিহারে সফল ভাবে এসআইআর হয়েছে। কেউ একটি ভুল ধরাতে পারেননি। এ বার ধাপে ধাপে সারা দেশেই তা হবে।’’ দ্বিতীয় পর্বের এসআইআর (প্রথম পর্বে হয় বিহারে) তালিকায় আছে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লক্ষদ্বীপ, পুদুচেরি, আন্দামান ও নিকোবরে। কোনও যোগ্য যাতে বাদ না পড়েন, কোনও অযোগ্য যাতে ঠাঁই না পান, সেই লক্ষ্যেই এই ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতে আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। কিন্তু ওই চার বিধানসভার সঙ্গেই ভোট হতে যাওয়া অসমে এ যাত্রায় এসআইআর হয়নি।
এসআইআর-এর প্রথম পর্বে ছিল, বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও), নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআর) এবং অন্যান্যদের প্রশিক্ষণ। আগের ভোটার তালিকার সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা। এনুমারেশন পর্বে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণ, সংগ্রহ এবং মিলিয়ে দেখার কাজ হবে। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১২০০ ভোটারের সংখ্যানির্ধারণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয় এই পর্বে। জ্ঞানেশবাবুর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল— ‘‘সব বিএলও সব বাড়িতে তিন বার করে যাবেন।’’ এনুমারেশন-পরবর্তী পর্যায়ে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, যাঁদের নাম মেলেনি তাঁদের নোটিস পাঠানো, দাবি এবং আপত্তি সংক্রান্ত শুনানি (সব ঠিক থাকলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি) এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ।প্রসঙ্গত, ১৯৫১ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দেশে এসআইআর হয়েছে আট বার। ২১ বছর আগে শেষ বার এসআইআর হয়েছে— ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত। বিহার থেকে শুরু হয়েছে নবম বারের পালা।
