
বাসন্তী, ৫ ফেব্রুয়ারি : শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার ভারতীর মোড় এলাকায় বোমা বাঁধতে গিয়ে বোমা ফেটে বিস্ফোরণের ঘটনায় ফের প্রকাশ্যে চলে এল তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। এদিন বোমা বাঁধতে গিয়ে বোমা ফেটে বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত হয় চারজন। যারা বোমা বাঁধছিলো তাঁরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের অনুগামী দাবি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে পঞ্চায়েত প্রধান আজাদ কয়াল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এলো বাসন্তীতে। রবিবার বাসন্তীর কাঠালবেরিয়া এলাকায় যুব তৃণমূলের একটা সভা আছে, সেই সভা বানচাল করার জন্যই কার্যত বোমা বাধা হচ্ছিল বলে দাবি যুব তৃণমূল নেতাদের। ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুজন গ্রেফতার করেছে বাসন্তী থানার পুলিশ।
বোমা বাঁধতে গিয়েই বিস্ফোরণের জেরে গুরুতর জখম হয়েছেন চারজন দাবি পুলিশের। জখমরা সকলেই বোমা বাঁধছিলেন বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। ঘটনার খবর পেয়ে বাসন্তী থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এদিন দুপুর পৌনে একটা নাগাদ স্থানীয় মনিরুল খাঁর বাড়িতে আচমকাই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে দেখেন এলাকার কয়েকজন মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছেন। এলাকাবাসীই প্রাথমিক ভাবে উদ্ধারের কাজে হাত লাগান। এরপরেই ঘটনার খবর পেয়ে বাসন্তী থানার আই সি দুর্গাপ্রসাদ মজুমদার ও এসডিপিও ক্যানিং দিবাকর দাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকায় গিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। আহতদেরকে উদ্ধার করে কলকাতার এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। পুলিশ জানিয়েছে আহতদের নাম রাকিবুল্লা, খালেক, মনসুর ও স্বপন।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে শনিবার রাতেই বাসন্তী থানার পুলিশ মনিরুল খাঁ ও আব্দুল মাজিদ খাঁ নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত দুজনকেই রবিবার আলিপুর আদালতে তোলা হবে। তাঁদেরকে দশদিনের পুলিশ হেফাজতের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এ বিষয়ে আরও তদন্ত করতে চাইছে বাসন্তী থানার পুলিশ।
