
কলকাতা, ৪ জুন: ওড়িশায় ট্রেন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য নিজেদের দরজা খুলে দিল রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন ব্যারাকপুর। ওড়িশায় রেল দুর্ঘটনার জেরে যে শিশুরা অনাথ হয়ে গিয়েছে বা যে শিশুদের অভিভাবকরা আহত হয়েছেন ও কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, তাদের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন ব্যারাকপুরের প্রধান সচিব স্বামী নিত্যরূপানন্দজি মহারাজ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ওড়িশায় ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার পর শনিবার রাতে টুইটারে স্বামী নিত্যরূপানন্দজি মহারাজ বলেন, ‘ওড়িশার বালাসোরে সম্প্রতি যে রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার জেরে যে শিশুদের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছে বা যে শিশুরা অনাথ হয়ে গিয়েছে, তাদের সকলের দেখভালের দায়িত্ব বিনামূল্যে নিতে পারে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন ব্যারাকপুর। দয়া করে সকলকে এটা জানিয়ে দিন। rkvmsecretary@gmail.com-তে যোগাযোগ করতে পারেন।’
পরে বিষয়টি নিয়ে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন ব্যারাকপুরের প্রধান সচিব জানান, ওড়িশায় যে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাতে মর্মাহত এবং শোকস্তব্ধ তিনি। সেই দুর্ঘটনায় অনেক শিশুর ভবিষ্যৎ ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। দুর্ঘটনায় হয়ত কারও বাবা-মা মারা গিয়েছে। কারও বাবা-মায়ের জীবন রক্ষা পেলেও তাঁরা কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন। পরিবারের উপর আর্থিক সংকট নেমে আসকতে পারে। সেই বিষয়টি বিবেচনা করে ওড়িশার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য স্বার্থে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৪ বছর পর্যন্ত ছেলে ও মেয়েদের যাবতীয় দায়িত্বভার গ্রহণ করবে রামকৃষ্ণ মিশন।
সব শিশুই কি ব্যারাকপুরের মিশনে থাকবে? স্বামী নিত্যরূপানন্দজি মহারাজ জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রামকৃষ্ণ মিশনের অনাথ আশ্রম আছে। ওড়িশার বালেশ্বরে একটি অনাথ আশ্রম আছে রামকৃষ্ণ মিশনের। সেখানে অবশ্য শুধু ছেলেরা থাকতে পারবে। তাছাড়া ঝাড়খণ্ডের মধুপুরে অনাথ আশ্রম আছে। সেখানেও শিশুরা থাকতে পারে। তবে কোন শিশু কোথায় থাকবে, তা আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বামী নিত্যরূপানন্দজি মহারাজ।
