অনিরুদ্ধ সরকার,বাঁকুড়াঃ ভর সন্ধ্যায় প্রকাশ্য রাস্তায় গলার নলি কেটে যুবক খুন। ঘটনায় গ্রেফতার এক যুবক। ধৃতের নাম চন্দ্রশেখর সিংহ। শুক্রবার ভর সন্ধ্যায় বাঁকুড়া শহর লাগোয়া শ্যামদাসপুর গ্রামের বাড়ি থেকে ওই যুবককে গ্রেফতার করে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। ত্রিকোণ প্রেমের জেরেই যুবক খুন বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। ধৃতকে বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ধৃতকে শনিবার আদালতে তোলা হলে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় বিচারক। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ত্রিকোণ প্রেমের কারণেই এই খুনের ঘটনা। এবং খুর দিয়ে খুন করা হয়েছে ওই যুবককে। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার তদন্তে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। ধৃতের আইনজীবী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত নির্দোষ। আদালতে জামিনের আবেদন জানানো হবে। জানা যায় শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের অভিজাত পল্লী এলাকা হিসেবে পরিচিত প্রতাপ বাগানের সরকারি আবাসনের উলটো দিকে রাস্তার উপর থেকে ওই কিশোরের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে খবর।পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, 'ত্রিকোণ প্রেমে'র কারণে ওই কিশোরকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমে এই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শ্যামদাসপুরের বাড়ি থেকে সাগর সিং নামে বছর চব্বিশের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের ইদগামহল্লার বাসিন্দা বছর ২০ শেখ আমান এদিন সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে মোটরবাইক নিয়ে বেরিয়েছিল। পরে শহরেরই প্রতাপ বাগান এলাকা থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গলার নলি কেটেই ঐ কিশোরকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকার মানুষ যথেষ্ট আতঙ্কিত, তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলেই জানিয়েছেন। তবে খবর পেয়েই শুক্রবার ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ডিএসপি-ডিএনটি, বাঁকুড়া সদর থানার আই.সি সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি বাইক উদ্ধার করে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। অন্যদিকে মৃত কিশোরের পরিবারের দাবি, ফোন করে ডেকেই ছেলেকে খুন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির পাশাপাশি প্রয়োজনে তারা থানা ও এস.পি অফিস ঘেরাও করবেন বলে জানিয়েছেন।মৃতের বাবা শেখ ইসলাম এই প্রসঙ্গে বলেন, "জুম্মা শেষে সন্ধে সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। হয়তো কোনও বন্ধুদের সঙ্গে ঝামেলা হয়। পরে খবর আসে যে ওঁর গলায় খুর মেরে খুন করা হয়েছে। আমার ছেলেকে ডেকে খুন করা হয়েছে। স্থানীয়দের থেকে শুনি ওখানে পাঁচজন ছিল। কীভাবে এবং কেন এমন ঘটনা ঘটল তা আমি বুঝে উঠতে পারছি না। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই। এদিকে, বাঁকুড়া শহরের যে এলাকায় যুবকের গলার নলি কাটা হয়েছে, সেখান থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে বাঁকুড়া সদর থানার আইসি-র আবাসন। রাস্তাটিও যথেষ্ট ব্যস্ত। এমন ব্যাস্ত সড়কে ভর সন্ধ্যেতে কীভাবে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটল ? প্রশ্ন উঠেছে। এমন খুনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাঁকুড়া শহর জুড়ে। ঘটনার প্রকৃত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
