
কলকাতা, ১৬ জানুয়ারি : লালন শেখের অস্বাভাবিক মৃত্যুর সময় যে সিবিআই কর্তারা কেন্দ্রীয় সংস্থার রামপুরহাটের অস্থায়ী শিবিরে ছিলেন, সোমবার তাঁদের চার জনকেই সাসপেন্ড করা হল।
লালনের মৃত্যুর তদন্তে আপাতত সিবিআই কর্তাদের গাফিলতিকেই দায়ী করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সোমবার চার তদন্তকারী কর্তাকে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি বগটুই এবং ভাদু শেখ খুনের মামলায় চার জন নতুন তদন্তকারী কর্তাও নিয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সিবিআই সূত্রে খবর, এই কর্তাদের উপস্থিতিতে কী ভাবে একজন অভিযুক্তের মৃত্যু হল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্তারা। আপাতত বগটুইকাণ্ডের তদন্তের ভারপ্রাপ্ত সিবিআই কর্তা, ভাদু শেখের হত্যা মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার এবং আরও দু’জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে আছেন সিবিআই ইনস্পেক্টর রাহুল প্রিয়দর্শী, সিবিআইয়ের ডিএসপি বিলাশ মাদগুঠ এবং দু’জন কনস্টেবল।
সিবিআই সূত্রের দাবি, লালনকাণ্ডে উঠে আসা আর এক সিবিআই কর্তা সুশান্ত ভট্টাচার্যের কোনও ভূমিকা খুঁজে পাওয়া যায়নি। সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখার এই কর্তার সঙ্গে লালনের মৃত্যুর কোনও সংযোগ নেই বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা।
একই ভাবে লালন মৃত্যুর ঘটনায় আর যে সমস্ত এসপি বা ডিআইজির বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও কোনও পদক্ষেপ করেনি সিবিআই।
প্রসঙ্গত, বগটুই-কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত লালন শেখের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গত ২০ ডিসেম্বর বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু করল সিবিআই । বগটুই কাণ্ডে গ্রেফতারের পর সিবিআই হেফাজতে ছিলেন লালন শেখ। সেখান থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়। লাগে রাজনৈতিক রং। এই ঘটনায় আবার কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়।
