
কোচবিহার ২১ ফেব্রুয়ারি : কেন্দ্র -রাজ্য সংঘাতের মাঝেই অবশেষে বহু চর্চিত কোচবিহার কলকাতা বিমান পরিষেবা চালু হলো মঙ্গলবার। মঙ্গলবার কলকাতা দমদম এয়ারপোর্ট থেকে ইন্ডিয়া ওয়ান সংস্থার ৯ আসন বিশিষ্ট এই বিমানে সকাল ১১ টা ৩৫ মিনিট নাগাদ ছেড়ে কোচবিহার বিমানবন্দরে এসে পৌছলো ১. ৪০ নাগাদ । মঙ্গলবার এই বিমানে চেপে কোচবিহার এলেন কোচবিহার জেলার বিজেপির ৫বিধায়ক।। প্রথম দিনের এই বিমানে রাজ্য সরকারের পাঁচ প্রতিনিধি আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের সাথে সংঘাতে রাজ্য সরকারের কোন প্রতিনিধি বিমানে আসেননি। সূত্রের খবর অনুযায়ী রাজ্য সবকটি আসন চেয়েছিল যা কেন্দ্র দিতে রাজি হয়নি পাশাপাশি এই বিমানের শুভ উদ্বোধন করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। গতকাল রাতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই বিমানে আসার কথা ছিল কোচবিহার পৌরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং প্রাক্তন কোচবিহারের সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়ের। কিন্তু রাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ যে অনিবার্য কারণবশত বিমান যাত্রা বাতিল করা হলো এর পরেই জল্পনা শুরু হয়। অবশেষে রাজ্য সরকারের কোন প্রতিনিধি বিমানে কোচবিহার এসে পৌছলেন না। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ও এই বিমান পরিষেবার উদ্বোধন করলেন না। তবে মঙ্গলবার বিজেপি বিধায়কদের অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী প্রামানিক সহ বিজেপির অন্যান্য কর্মী সমর্থকরা এবং বেশ কিছু সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার ৩টে নাগাদ কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে দমদম বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য এই বিমানে রওনা হন ৫জন কোচবিহারবাসীকে নিয়ে। মঙ্গলবার যারা কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন সেই পাঁচজন জাতির মধ্যে একজন কৃষক একজন মাছ ব্যবসায়ী একজন কাঠমিস্ত্রি একজন বাউল শিল্পী কয়েকজন খর্বকার ছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক ঘোষণা করেছিলেন - আগামী তিন মাস এই বিমানের ভাড়া থাকবে ৯৯৯ টাকা তবে এই ৯৯৯ টাকা তিন মাসের জন্য নয় থাকবে শুধুমাত্র ন'দিনের জন্য জানিয়ে ইতিমধ্যে কটাক্ষ করেছে শাসক দল। তবে বিমানে কোচবিহার থেকে প্রথম দিনের যাত্রী হিসেবে ৫ সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বিরোধী দলের চক্রান্ত বলেই মত শাসকদলের। যদিও বিমান পরিষেবা কে সাধুবাদ জানিয়েছেন তারা তারপরেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক ইগোর কারণে সমস্ত অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে রাজ্যের শাসক দল এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।
কেন্দ্রীয় সরকারের উড়ান স্কিমের আওতায় আমেদাবাদের একটি বিমান সংস্থা ইন্ডিয়া ওয়ান এয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন কোচবিহার কলকাতা বিমান পরিষেবার। প্রতিদিন কোচবিহার থেকে কলকাতা, কলকাতা থেকে জামশেদপুর এবং জামশেদপুর থেকে ভুবনেশ্বর পর্যন্ত চলাচল করবে এই বিমান। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক বলেন - দীর্ঘদিন বাদে কেন্দ্রীয় সরকারের উরান স্কিমের আওতায় বহু প্রতীক্ষিত কোচবিহার বিমানবন্দর আমরা চালু করতে পেরেছি। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থেই এই বিমান পরিষেবা চালু করতে সক্ষম হয়েছে কেন্দ্র। রাজ্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন আমরা কখনোই সংঘাতে যেতে চাই না রাজ্য সাহায্য করবে এমনটাই আশা প্রকাশ করেন তিনি। যদিও এই প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী জানিয়ে দেন - কোচবিহার থেকে বিমান পরিষেবা চলবে এটা ভালো খবর তবে নয় আসন বিশিষ্ট এই বিমানের ৯৯৯ টাকা ভাড়া শুধুমাত্র ৯ দিনের জন্য এটা পঞ্চায়েতের আগে একটা গিমিক। উদয়ন বাবু কটাক্ষ করে বলেন আমাকে আমন্ত্রণ করা হয়নি তাই আমি যাইনি আর বিমান চলবে তাতে আমার আমন্ত্রণের কি প্রয়োজন ? তবে রাজ্য সরকার অসহযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন কোনটা আসল কোনটা নকল আর কোনটা যে যবর দখল আমরা কিছুই বুঝি না। রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই বিমান পরিষেবা চালু হওয়াতে খুশি কোচবিহারের সাধারণ মানুষ। পঞ্চায়েত নির্বাচন দোরগোড়ায় তার আগে এই বিমান পরিষেবা নিয়ে ফয়দা তুলতে ব্যস্ত রাজ্য কেন্দ্র দুই যদিও রাজনৈতিক দল। তবে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিমান পরিষেবা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে চালু করায় কিছুটা হলেও সুবিধা পাবে ভারতীয় জনতা পার্টি পাশাপাশি সমস্ত অনুষ্ঠান থেকে রাজ্য সরকার নিজেদের প্রতিনিধিদের সরিয়ে নেওয়ায় পঞ্চায়েতের আগে কিছুটা ব্যাগ ফুটে তৃণমূল কংগ্রেস বলেই মত ওয়াকিবহুল মহলের। কোচবিহার থেকে কলকাতা বিমানে ভ্রমণকারী যাত্রীদের হাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফুলের তোড়া এবং টিকিট তুলে দেয়। আগামীকাল থেকে প্রতিদিন এই বিমান চলাচল করবে কোচবিহার থেকে কলকাতা পর্যন্ত। বিমান পরিষেবার উদ্বোধনের সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপির নেতৃত্বদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দ্য গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের অনন্ত মহারাজ।
