West Bengal

2 years ago

Aliah University:আলিয়ার বিরোধ কি মেরামত করা যাবে, সন্দিহান টিএমসিপি-ই

Aliah University
Aliah University

 

কলকাতা, ২৫ জুলাই  : কেন একসঙ্গে সবাই মিলে পদত্যাগ? যে বিরোধ দেখা দিয়েছে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে, তা কি মেরামত করা যাবে ? এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ তৃণমূলেরই সংশ্লিষ্ট কিছু নেতা।

অভিযোগ, ওই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া তো হচ্ছেই না, তার সঙ্গে একের পর এক দুর্নীতি হয়ে চলেছে। টেন্ডার ছাড়াই একজনকে হোস্টেলের খাবারের বরাত দেওয়া হয়েছে। তিনি নিম্মমানের খাবার দিলেও পড়ুয়ারা কিছু বলতে পারছেন না। এই সবের নেপথ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মীর সিদ্দিকির হাত রয়েছে বলেও দাবি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ টাউন ক্যাম্পাসের টিএমসিপি সাধারণ সম্পাদক ওয়াদিল আলম বলেন, ‘‘আলিয়া মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু এখানে নানা অনিয়ম চলছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বার বার অভিযোগ জানিয়েও কাজ না হওয়ায় আমরা ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ এই প্রসঙ্গে সংগঠনের প্রধান তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এটা একেবারেই সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা খুব তাড়াতাড়ি নতুন কমিটি তৈরি করব। তবে আমরা নিশ্চিত যে, আলিয়ার পড়ুয়ারা আগের মতোই টিএমসিপির সঙ্গেই রয়েছে।’’

যদিও পদত্যাগীদের দাবি, পড়ুয়ারাও সব মিলিয়ে ক্ষুব্ধ। নানা কারণে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পড়ুয়াদের স্বার্থপূরণ করতে না পেরেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত। পদত্যাগীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট থেকে সাইকেল স্ট্যান্ড তৈরিতে দুর্নীতি হয়েছে। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন অধ্যাপক এবং কর্মীর সঙ্গে যোগসাজশ রেখেই আদতে কলকাতা পুরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়র এই সব দুর্নীতিতে মদত দিচ্ছেন।

সিদ্দিকি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত বলেও অভিযোগ। তেমন কিছু ছবি তাঁদের সংগ্রহে রয়েছে জানিয়ে আলিয়ার এক পড়ুয়া বলেন, ‘‘সিদ্দিকিদা দিনের পর দিন এখানে অরাজকতা করছেন। বার বার তাঁর নামে নালিশ করলেও উচ্চ নেতৃত্ব কোনও ব্যবস্থা নেননি।’’

পদত্যাগপত্রেও এ সব উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রশাসনিক বিভাগ থেকে শুরু করে ওয়েবকুপা, কারও সঙ্গে টিএমসিপির কোনও যোগাযোগ নেই। ফলে ছাত্রছাত্রীদের পরিষেবা দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যবেক্ষকের ব্যক্তিস্বার্থের মুখ্য প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে তৃণাঙ্কুর বলেন, ‘‘যা যা অভিযোগ রয়েছে, সব খতিয়ে দেখা হবে। সংগঠনের জন্য যেটা ভাল, সেটাই হবে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্যি হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’’

তবে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মীর সিদ্দিকি। তিনি বলেন, ‘‘আমি সংগঠনের স্বার্থেই যা করার করেছি। কোনও অন্যায় কাজের সঙ্গে আমি যুক্ত নই।’’ তাঁর বিরুদ্ধে অসামাজিক কাজকর্মের যে অভিযোগ উঠেছে, তাকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে চাননি সিদ্দিকি।


You might also like!