Breaking News
 
Vivekananda Merit Scholarship :শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ, মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য চালু হল বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ Chief Minister Suvendu Adhikari : র্নীতি ও কাটমানি খতিয়ে দেখতে কমিশন গড়লেন শুভেন্দু, সঙ্গে নারী নির্যাতন নিয়েও আলাদা কমিশন CM Suvendu Adhikari starts Janatar darbar : সল্টলেকে বিজেপি দফতরে শুভেন্দুর ‘জনতার দরবার’, জনতার সমস্যা শুনে মিলল স্বস্তি Suvendu Adhikary: “কাশ্মীরে বন্ধ হয়েছে, এখানেও হবে”—পার্ক সার্কাসে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি ,গ্রেফতার ৪০ Suvendu Adhikari :রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়, আর জি কর ইস্যুতে স্বাস্থ্যসচিবকে জরুরি তলব মুখ্যমন্ত্রীর Annapurna Bhandar : অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার স্কিমে নতুন ঘোষণা, ১ জুন থেকেই ৩ হাজার টাকা পাবেন নির্দিষ্ট উপভোক্তারা

 

West Bengal

2 years ago

Ataur Molla of Hasanbad was injured in a train accident in Odisha:কপাল জোরে পরিবারের কাছে ফিরলেও, আতঙ্কের ঘোর এখনও কাটছেনা আতাউর - সৈকত দের।

Ataur Molla of Hasanbad was injured in a train accident in Odisha
Ataur Molla of Hasanbad was injured in a train accident in Odisha

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বাড়ি ফিরলেন ওড়িশায় রেল দুর্ঘটনায় আহত হাসনবাদের আতাউর মোল্লা।গত শুক্রবার কেরলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তিনি।ওড়িশার বালেশ্বরে রেল দুর্ঘটনার কবলে পরেন আতাউর । গুরুতর আহত হন হাসনাবাদের উত্তর হাবাসপুরের  এই যুবক।শনিবার সকালে  প্রশাসনের তরফে বাড়িতে খবর আসার পর পশ্চিম মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন পরিবারের লোকজন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা ফিরোজ হাসান মোল্লা।রবিবার ভোর চার টা নাগাদ বাড়ি ফেরেন আতাউর।ছেলে বাড়ি ফেরায় স্বস্তিতে পরিবার।

বাড়ি ফিরে সেদিনের রাতের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানান  তিনি, ঘটনার দুদিন পরেও আতঙ্কের ঘোর কাটছে না তার। তার কথায় হঠাৎ একটা জোরে শব্দ, কি হয়েছে ভাবার আগেই পাল্টি খেয়ে গেলো ট্রেনের বগি,চারিদিকে চিৎকার, কান্নার রোল।  যেখানে  তিনি বসে ছিলেন ভাগ্যচক্রে তার পাশের জানালা টা ভেঙে যায়,কোনো ক্রমে সেই উল্টে থাকা বগির জানলা দিয়ে বাইরে আসেন আতাউর।প্রাণপন চেষ্টা করে কয়েকজনকে বাইরে বারও করেন তিনি।তিনি জানান প্রচন্ড আঘাতে ততক্ষনে তার মাথা ফেটে রক্ত বারহচ্ছে ,সে মত পরিস্থিতিতে তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় কোনো ক্রমে হেঁটে একটু আসতেই এক গ্রামবাসীর সহযোগিতায় স্থানীয় চিকিৎসালয়, সেখান থেকে পুলিশি সহযোগিতায় হাসপাতালে পৌঁছান।হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে আহতদের জন্য বিশেষ বাসে মেদিনীপুরে শালবনি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আসা পর্যন্ত স্থানীয় মানুষ,এলাকার যুবক থেকে পুলিশ প্রশাসন সকলে নিজের পরিবারের মানুষের মতো সবরকম ব্যাবস্থা করেছিলেন।অচেনা সেই আপনজন দের জন্য দোয়াও করেছেন তিনি।তার বগির কতজন যাত্রী যে প্রাণ হরিয়েছেন তা ভেবেও রীতিমতো মর্মাহত আতাউর।

অপরদিকে,ছেলে বাড়ি ফেরাতে অনেকটা স্বস্তিতে পরিবার,তবে ছেলের মাথার চোট নিয়ে চিন্তায় তার মা সহ অন্যান্নরা।তার পরিবারের লোকজন জানান, মসজিদে নামাজ পড়ানোর কাজের জন্যই সে কেরালা রওনা দিয়েছিলো।তার মাঝে এই বিপত্তি।দুর্ঘটনার খবর পওয়ার পর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো বাড়ির ছেলের সঙ্গে।দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছিলেন   পরিবারের সদস্যরা।অবশেষে রাতের দিকে বাড়ি ফোন করে আতাউর জানান তিনি হাসপাতালে আছেন।ছেলেকে ফিরে পেলেও সেদিনের সেই আশঙ্কার  ঘোর যেন এখনও কটছেনা  তার মা বাবা সহ পরিবারের সকলের। হাবাসপুরে খালের পাশে ছোট্ট মাটির ঘরে  বসবাস করেন আতাউর ও তার পরিবার,অন্যত্র না গিয়ে যদি এখানেই কোনো কাজ মিলতো তাহলে খুব ভালো হতো বলেন আহত যুবকের মা।

স্থানীয় প্রশাসন মারফত খবর পাওয়ার পর প্রশাসনের সহযোগিতায় মেদিনীপুর শালবনী হাসপাতাল থেকে হাসনাবাদে নিজের বাড়িতে ফেরত আনার সময় আতাউরের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শালবনী তে যান স্থানীয় তৃণমূল নেতা ফিরোজ হাসান মোল্লাও।তিনি বলেন শালবনী হাসপাতালের চিকিৎসক সহ স্থানীয় মানুষজন ভীষন সহযোগিতা করেছেন।তার কথায় সামান্য আহত বা গুরুতর আহত দের জন্য আলাদা আলাদা ব্যাবস্থা করা হয়েছে।শুধু আতাউর ই নন সেখানে বাংলার বিভিন্ন জায়গার আহত যাত্রীদের  সুস্থতা সহ তাদের পরিবারকে সহযোগিতার জন্য সরকারী তরফে যে সহযোগিতা করা হয়েছে তার জন্য  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান তিনি।

 অপরদিকে, হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের যোগেশগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের পাট ঘেরার বাসিন্দ সৈকত মন্ডলও ছিলেন অভিশপ্ত ট্রেনে। কর্মসূত্রে ব্যাঙ্গালোরে  ছিলেন এই যুবক। পারিবারিক সমস্যার কারনে বাড়ি ফিরছিলেন সৈকত।ফেরার পথে  উড়িষ্যার বালেশ্বরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ট্রেন। আহত হন সৈকত। 

ঘটনার কিছুক্ষন পর, গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় তড়িঘরি চেষ্টা করে সড়ক পথে বাসে করে হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে শিয়ালদা স্টেশানে পৌঁছান সৈকত। সৈকত জানান শিয়ালদা স্টেশানে পৌঁছানোর পর তার কাছে আর কোনো টাকাই অবশিষ্ট ছিলোনা, স্টেশানে তার কাছে দুর্ঘটনার কথা শুনে ও তার জামা কাপড়ের অবস্থা দেখে এক সহৃদয় রেল কর্মী তাকে অর্থ সাহায্য করেন,সেই টাকায় খাওয়া দাওয়া করেন ও হাসনাবাদ লোকালে হাসনাবাদে ফেরেন সৈকত।তার মামা তাকে আনতে যান।চিকিৎসার পর আপাতত সুস্থ আছেন সৈকত।তবে সেদিনের সেই ঘটনার আতঙ্কের ঘোর এখনও কাটছে না সৈকতের। 

উপরওয়ালার কৃপাতেই দুর্ঘটনার করালগ্রাস থেকে পরিবারের ছেলেদের ফিরে পেয়েছেন।আর যেন এভাবে কোনো মায়ের কোল খালি না হয় প্রার্থনা করছেন আতাউর - সৈকতের পরিবার-পরিজনরা।


You might also like!