
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভ্রমণের প্রতি টান বহুদিনের। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে ঘোরার ধরন। বিলাসবহুল ট্যুরের বদলে এখন অনেকেই ঝুঁকছেন ‘ব্যাকপ্যাকিং’-এর দিকে। কাঁধে একটি ব্যাগ, তার মধ্যেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র— আর তাতেই শুরু হয়ে যায় দেশ-বিদেশ ঘোরার অভিযান। এই সহজ, স্বল্প খরচের এবং স্বাধীন ভ্রমণ পদ্ধতিই এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। ব্যাকপ্যাকারদের মূল লক্ষ্য থাকে কম খরচে বেশি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা। সাধারণত তাঁরা একাই ভ্রমণ করেন, নিজেদের মতো করে পরিকল্পনা করেন এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে চান। হোটেলের বদলে হোস্টেল বা হোমস্টেতে থাকা, স্থানীয় খাবার খাওয়া এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করাই তাঁদের ভ্রমণের বৈশিষ্ট্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাকপ্যাকিং শুরু করার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। যেমন—
১. গ্রুপ: ঝোলা কাঁধে একলা বেরিয়ে পড়লেও খরচের ধাক্কা আসে যখন দু’জনের থাকার ঘরে একা থেকে পুরো ভাড়া গুনতে হয়। এক জায়গা থেকে অন্যত্র যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি খরচ একার ঘাড়ে এসে পড়ে। দরকার খরচ বাঁচানোর কৌশল, দল জোগাড় করা। বেড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে, আগেই হস্টেল বা ব্যাকপ্যাকারদের কোনও গ্রুপের সদস্য হতে পারেন। হোয়াটস অ্যাপ, ফেসবুক-সহ বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে এমন দলের হদিশ থাকে। একলা ভ্রমণার্থীদের অনেকেই জানাচ্ছেন, এই গ্রুপগুলি সদস্য পেতে সাহায্য করে। যেমন কোনও একটি নির্দিষ্ট স্থানে যাওয়ার আগে বা সেখানে পৌঁছে গ্রুপে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, এমন জায়গায় কেউ আপনার সঙ্গে ঘর শেয়ার করবেন কি না। আবার নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থল জানিয়ে ট্যাক্সিতে আর কেউ যেতে ইচ্ছুক কি না, জেনে নেওয়া যেতে পারে। এই ভাবে যেমন সঙ্গীও মিলে যায়, তেমন খরচও ভাগ হয়ে যায়।
২. হস্টেল: ঝোলা কাঁধে বেরিয়ে পড়া এমন পর্যটকদের জন্য থাকার জায়গা হিসাবে হস্টেল, কোনও প্রতিষ্ঠানে্র ডর্মিটারি ঘর বেশ ভাল। হস্টেলে ঘর ভাগ করে নেওয়ার সময় খুব সহজে অন্যদের সঙ্গে আলাপ জমানো যায়। তা ছাড়া, হস্টেলে যেহেতু একলা ভ্রমণার্থী বেশি আসেন, তাঁরাও শেয়ারে গাড়ি খোঁজেন বা ট্রেকিং-এর সঙ্গী চান। প্রয়োজনের খাতিরেই তৈরি হয় যায় দল। দলগত ভ্রমণে খরচ কমে যায়।
৩. শনি এবং রবি: ছুটির দিনগুলিতেই সকলে ঘোরার পরিকল্পনা করেন। সেই কারণে দেখা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যার পর, শনিবার সকালের দিকে বাস, ট্রেন, উড়ান থেকে হোটেল— সবেতেই চাহিদা থাকে তুঙ্গে। চাহিদা বেশি হওয়ায় খরচও বাড়ে। তাই গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য শনিবার বাদ দিতে পারেন। মঙ্গল, বৃহস্পতিবারের মতো দিনগুলিতে ভিড় তুলনামূলক কম হয়। শনিবার কোনও গন্তব্যস্থল পায়ে হেঁটে ঘোরা বা বাজার এলাকাগুলি ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রাখতে পারেন।
৪. আরাম: খরচ বাঁচানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে গিয়ে সাধারণ আরামের সঙ্গে সমঝোতা করলে মুশকিল। বিশেষত যেখানে সারা দিনের লম্বা সফর রয়েছে সেখানে খরচ একটু বেশি হলেও, ট্রেন কিংবা বাসে, আরামদায়ক আসনটাই বাছা দরকার। ঘুরতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়াটাও কাঙ্ক্ষিত নয়। উল্টে ঠিকঠাক আসন না পেলে শরীরে সমস্যা হতে পারে। তখন বিপদ বাড়বে বই কমবে না।
৫. সিম: বিদেশ বিভুঁইয়ে বে়ড়াতে গেলে সেই দেশের মোবাইল সিম কার্ড দরকার। বিমানবন্দর থেকে তা কিনলে, খরচ বাড়ে। আবার টাকা ভাঙাতে গেলেও একই সমস্যা হয়। তাই চেষ্টা করুন আগেই সিম সংগ্রহ করতে। না হলে সেই দেশে পৌঁছে স্থানীয় দোকান থেকে সিম নিতে। এতে খরচ বাঁচানো যায়। মুদ্রাও আগে থেকেই ভাঙিয়ে নেওয়া ভাল, এতে ভাল অফার পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যারা কম খরচে স্বাধীনভাবে বিশ্বকে চিনতে চান, তাঁদের কাছে ব্যাকপ্যাকিং হতে পারে এক দারুণ বিকল্প।
