kolkata

2 years ago

Suchetana wants to become a transman: সুচেতনা থেকে সুচেতনের সফর! আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন বুদ্ধ তনয়া

Suchetana Bhatterjee wants to become a transman (File Picture )
Suchetana Bhatterjee wants to become a transman (File Picture )

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ মানব মনের ৭টি স্তর, সে স্তরের কখন কোন ঝড় ওঠে আমরা কেউ জানি না। মানব মন যে কখন কী চায় তা বুঝতে বিস্তর বেগ পেতে হয়, কেউ সেই চাওয়া কে চিরকাল গোপনে রাখেন আবার কেউ সেই চাওয়া কে পেতে জান বাজী রাখেন। তেমনই এক চাওয়া কে পূরন করতে চেয়ে আইনি পরামর্শ নিতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কন্যা সুচেতনা ভট্টাচার্য। এইনি পরামর্শের পাশাপাশি তিনি প্রয়োজনীয় শংসাপত্রের জন্য যোগাযোগ করেছেন মনোবিদের সঙ্গেও। 

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি ‘এলজিবিটিকিউ’ কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলেন সুচেতনা। সেই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী একজন সমাজমাধ্যমে সুচেতনা সম্পর্কে একটি লম্বা পোস্ট করেছেন। ‘গৌরব মাসের গল্প’ শিরোনামের সেই পোস্ট শুরুই হয়েছে এটা লিখে যে, ‘সুচেতনা আজ থেকে সুচেতন’। সেই পোস্টেই জানানো হয়েছে, সুচেতনার বাবা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থ। মা মীরা ভট্টাচার্যের পেসমেকার বসেছে।

সুচেতনার কথায়, ‘‘আমার পিতৃ-মাতৃ পরিচয় বা পারিবারিক পরিচয়টা বড় কথা নয়। আমি এটা করছি আমার এই এলজিবিটিকিউ+ আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে। একজন ট্রান্সম্যান হিসেবে প্রতি দিন আমায় যে সামাজিক হেনস্থা হতে হয়, সেটা আমি বন্ধ করতে চাই। আমি প্রাপ্তবয়স্ক। আমার বয়স এখন ৪১ প্লাস। ফলে আমি আমার জীবন সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারি। এই সিদ্ধান্তও সেই ভাবেই নিচ্ছি। দয়া করে আমার বাবা-মাকে এর মধ্যে টেনে আনবেন না। এখন নিজেকে যিনি মানসিক ভাবে পুরুষ মনে করেন, তিনিও পুরুষ। যেমন আমি। আমি নিজেকে মানসিক ভাবে পুরুষ বলেই মনে করি। আমি এখন সেটা শারীরিক ভাবেও হতে চাই।’’

সুচেতনার এই সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানিয়েছে সমাজের একটি অংশ। তাঁদের বক্তব্য, সুচেতনার মতো কেউ যদি এই সিদ্ধান্ত নেন, তা হলে এলজিবিটিকিউ+ আন্দোলন অনেক গতি পাবে। সুচেতনা নিজেও বলছেন, ‘‘আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ফলে আমি এটা নিয়ে লড়ে যাব। সেই সাহসটা আমার আছে। কে কী বললেন, তাতে আমার কিছু যায়-আসে না। আমি সকলের সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিতে তৈরি।’’ 

‘‘পিআরসি-র ৮০তম প্রতিষ্ঠা বছর উদ্‌যাপন উপলক্ষে ১০ জুন, ২০২৩ অ্যাকশন টু হেল্‌থ অফ দ্য এলজিবিটিকিউ+কমিউনিটি ওয়ার্কশপে যোগদান করে সুচেতনা  (অ্যালিয়াস) সুচেতনা ভট্টাচার্য যে গর্বিত ও আনন্দিত তা তিনি নিজে জানান। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন- এলজিবিটিকিউ+ মানুষের অধিকার ও সমস্যা নিয়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম, যা আমার মতো ট্রান্সম্যানকে সমৃদ্ধ করেছে, উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।’’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘‘বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এলজিবিটিকিউ+ মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেও খুব ভাল লেগেছে। তার মতে ‘‘এই ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি করে হওয়া দরকার এবং এই ওয়ার্কশপগুলি থেকে যে পর্যবেক্ষণ উঠে আসছে, সেগুলোর সমাধান/প্রয়োগের দিকেও লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। লাগাতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই এলজিবিটিকিউ+ মানুষদের তাদের প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা ও স্বীকৃতি দিতে তথাকথিত ‘মূলস্রোত’ সমাজকে বাধ্য করতে হবে।’’তিনি আরো বলেন-সুচেতনা বলেন, ‘‘আমি পোস্টটা দেখেছি। এটা আমার একটা লড়াই। আমি শুধু এই লড়াই আমার জন্য লড়ছি না। লড়ছি আরও অনেক অনেক প্রান্তিক মানুষের জন্য।’’

তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কন্যা হওয়ায় এই বিষয়টি নিয়ে যে ‘জলঘোলা’ হতে পারে, সে সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল তিনি, তবে তার ঘনিষ্ট সূত্রের খবর তিনি ‘পদবিহীন’ হয়ে শুধু ‘সুচেতন’ও হয়ে যেতে পারেন। 

সুচেতনার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্টটিতে তাঁর ‘জীবনসাথী’র উল্লেখও রয়েছে। লেখা হয়েছে, ‘‘সুচেতন সুচন্দাকে পেয়েছে জীবনসাথী হিসেবে। একই সঙ্গে ঘর বেঁধেছে সুচেতন ও সুচন্দা। সুচেতন কটি অডিয়ো ভিস্যুয়ালে ফ্রি ল্যান্সিংয়ের কাজ করে আর সুচন্দা একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। 

বরাবরই এমন আইডিন্টি ক্রাইসিস হলে মানুষের মধ্যে হীনমন্যতা ও অপরাধ প্রবনতা বাড়ে , হাতে গুনে কিছু সংখ্যক মানুষকেই দেখা যায় প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিজের অধিকার হাসিল করতে, এক্ষেত্রে সুচেতনা সেই রাস্তাই বেছে নিয়ে সমাজে  নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। সার্থক তার এই অধিকারের আন্দোলন। 

You might also like!