
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের টুইটার হ্যান্ডল থেকে টুইট করে রাজ্যসভার প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করে বাংলার শাসকদল।তালিকার চতুর্থ নামটি দেখে থমকে যান অনেক নামজাদা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই। সামিরুল ইসলাম! কিন্তু কে এই সামিরুল কেউ বলছিলেন, নামই শোনেননি। কেউ আবার বললেন, নাম শুনেছেন। কিন্তু আলাপ নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ‘নো ভোট টু বিজেপি’ স্লোগানই সামিরুল-সামিরুল ‘সেতুবন্ধন’ করে দিয়েছিল। তবে কোনওকালেই রাস্তায় নেমে সক্রিয় ভাবে তৃণমূল করেননি তিনি।
পেশায় গড়িয়া দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজের রসায়নের অধ্যাপক। নেশায় সংগঠক। তাঁর মূল কাজ অনগ্রসর শ্রেণিকে সংগঠিত করা। কোভিডের সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্য করার জন্য একাধিক উদ্যোগ নিয়েছিল তাঁর সংগঠন ‘বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ’।
রবিবার রাতে যখন রাজ্যসভায় প্রার্থী হওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্ব, তখনও তিনি বলেছিলেন, সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তারা সম্মতি দিলে তবেই তিনি রাজি হবেন।সূত্রের খবর সোমবারেই তিনি রাজ্য বিধানসভায় গিয়ে মনোনয়নপত্রে সইসাবুদ সারবেন।
১৯৮৭ সালে বীরভূমের রামপুরহাট থেকে বেশ কিছুটা দূরে দুনিগ্রামে জন্ম সামিরুলের। সেই এলাকা হাসন বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত। পড়াশোনা শুরু দুনিগ্রাম হাইস্কুলে। মাধ্যমিকের পর ভর্তি হন রামপুরহাট হাইস্কুলে। সেখান থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক। সামিরুল তার পরে চলে আসেন কলকাতায়। মণীন্দ্র কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক। তারপর দিল্লি আইআইটি থেকে স্নাতকোত্তর। সামিরুলের স্ত্রী আইনজীবী।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ‘নো ভোট টু বিজেপি স্লোগান’ তৈরি, প্রচার এবং একটা সার্বিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সামিরুলের ভূমিকা নজর কেড়েছিল শাসকদলের। ২০২১ সালের প্রাক্ বিধানসভা পর্ব সামিরুল এবং তৃণমূলকে কাছাকাছি এনেছিল বলেই বলছেন অনেকে। ভোটের পর থেকে ‘বাংলা সংস্ক়ৃতি মঞ্চ’-এর সঙ্গে তৃণমূল ধারাবাহিক সমন্বয় রেখে চলেছিল বলেও খবর। সামিরুলের অবশ্য বক্তব্য, কোভিড-পর্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে পর্যবেক্ষণ কমিটি গড়েছিল, তা তাঁকে তৃণমূলের প্রতি বিশেষ ভাবে আকর্ষিত করেছিল।সক্রিয় ভাবে সংসদীয় বা পরিষদীয় ভোটের রাজনীতি না-করলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ‘সক্রিয়’ অংশগ্রণ ছিল সামিরুলের। সিএএ, এনআরসি বিরোধী আন্দোলন, কৃষক সংগ্রাম— সবেতেই যুক্ত থেকেছেন। কিন্তু কখনও দলীয় রাজনীতির বৃত্তে ছিলেন না। কিছুটা স্বাধীন ভাবেই কাজ করতেন। তা হলে তিনি কেন দলীয় রাজনীতির গণ্ডিতে যুক্ত হলেন? জবাবে সামিরুল বলেন, ‘‘দিদি আমায় বলেছেন, আরও সোচ্চারে বাংলার অধিকার, অনগ্রসর মানুষের হক আদায়ের কথা বলতে হবে। আমি সেটাই করতে চাই।’’
