
কলকাতা, ৯ অক্টোবর : পুজো তো বটেই পরের কয়েক মাসে ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমাতে আরও একগুচ্ছ নির্দেশিকা প্রকাশ করতে পারে রাজ্য প্রশাসন। ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গির লড়াইয়ে গয়ংগচ্ছ ভাব বরদাস্ত করা হবে না।
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী মঙ্গলবার নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী স্বয়ং ফিরহাদ হাকিম ১২৮টি পুরসভার সঙ্গে আলোচনায় বসছেন। যাবতীয় নির্দেশিকার কাজ কতটা এগোল তা নিয়ে বুধবার রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী ফের সব দফতর ও জেলা কর্তাদের সঙ্গে তার পর্যালোচনা করবেন। নবান্ন ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, প্রশাসন চাইছে বছরভর মশাবাহিত রোগের বিরুদ্ধে অভিযান। কিন্তু একশ্রেণির কর্মীর গা ছাড়া মনোভাবে রোগ ছড়াচ্ছে বলে মনে করেন পুর দফতরের আধিকারিকরা।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কোন পদ্ধতিতে চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর রাজ্য প্রশাসনের তরফে রূপরেখা প্রকাশ করে জানানো হয়েছিল। কিন্তু নগরোন্নয়ন দফতরের তথ্য বলছে, ৮ তারিখ পর্যন্ত সিংহভাগ পুরসভা হেল্পলাইন চালু করতে পারেনি। ৬৫ বছরের বেশি ভেক্টর কন্ট্রোল কর্মীদের বদলে নতুন কর্মী নিয়োগের কাজও এখনও অধরা। এইসব ঘাটতি অবিলম্বে মেরামত করতে হবে বলেই মনে করছেন নগরোন্নয়ন দফতরের আধিকারিকরা। তাই মঙ্গলবার ও বুধবারের দু’টি বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা।
বেসরকারি তথ্য বলছে, রাজ্যে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ছুঁইছুঁই। মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে খবর, এই অবস্থায় মশাবাহিত ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু অভিযানে আরও গতি আনতে পুর এলাকায় বাড়ি বাড়ি নজরদারি চালাতে ১৭ হাজার ৫৩ টি দল তৈরি করেছে নগরোন্নয়ন দফতর।
প্রায় ৩৪ হাজার ১০৬ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। সুপারভাইজার নিয়োগ হয়েছে ৩ হাজার ৭৫১ জন। কম্পিউটারে তথ্যবন্দি করতে ৮৫৮ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। ১২৮টি পুর এলাকায় নতুন করে ৬ হাজার ৯১৬টি ভেক্টর নিয়ন্ত্রণ দল তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ভেক্টর কন্ট্রোল কর্মী ২০ হাজার ৭৮৪ জন এবং সুপারভাইজার ২ হাজার ৭৮২ জন।
