
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ যাদবপুর ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার করা হল গত বুধবার রাতে হস্টেলের তিন তলা থেকে প্রথম বর্ষের পড়ুয়া কে পড়ার সময় ‘বাঁচাতে যাওয়া’ মহম্মদ আরিফ কে। যে আরিফ মৃত পড়ুয়ার পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তাঁর হাত ধরে ফেলেছিলেন কিন্তু তা ফসকে যায় বলে পুলিশকে জানিয়েছিলেন ছাত্ররা। তাহলে কেন গ্রেফতার করা হল?যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া আরিফ গ্রেফতার হয়েছেন পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে।
যাদবপুরের প্রধান ছাত্রাবাসে আরিফ যেখানে থাকতেন, তার নীচের তলেই থাকতে এসেছিলেন মৃত পড়ুয়া। পুলিশের কাছে যাদবপুরের ছাত্রদের একাংশ দাবি করেছিলেন, ঘটনার দিন রাতে নীচ থেকে চিৎকার, চেঁচামেচি শুনে আরিফ নামেন। ছাত্রদের একাংশের দাবি, সেই সময় অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন মৃত ছাত্র। তিনিও ওই পড়ুয়াকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। পড়ুয়াদের একাংশ পুলিশের কাছে এ-ও বয়ান দিয়েছিলেন যে, ওই পড়ুয়া যখন ছাত্রাবাসের বারান্দা থেকে নীচে পড়ে যান তখন আরিফই তাঁর হাত ধরে ফেলেছিলেন। কিন্তু ঘর্মাক্ত হাত কোনও ভাবে ফসকে যায় এবং ওই পড়ুয়া সোজা নীচে এসে পড়েন।
পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে আরিফ যখন ওই পড়ুয়ার হাত ধরে ফেলেছিলেন, তখন বারান্দায় জামা, কাপড় শুকোতে দেওয়ার দড়ি তাঁর কপালে ঘষে যায়। এখানে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল, পুলিশ যে ছাত্রদের সঙ্গে আগেই কথা বলেছিল, সেই তালিকায় ছিলেন আরিফও।
পুলিশ সূত্রে খবর, আরিফ-সহ যাদবপুরের ছাত্ররা বয়ানে দাবি করেছিলেন, চিৎকারের আওয়াজ শুনে উপরের তল থেকে নীচে নেমেছিলেন আরিফ। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, চিৎকার, চেঁচামেচি শুনে নয়, ঘটনার আগে এবং পরে সেখানেই উপস্থিত ছিলেন আরিফ। পুলিশ জানতে পেরেছে, হস্টেলের তিন তলা থেকে পড়ার সময় যে ১২-১৩ জন আবাসিক এবং পড়ুয়ারা সেই তলে উপস্থিত ছিলেন, তাদেরই অন্যতম আরিফ।
