
মুর্শিদাবাদ, ১৭ এপ্রিল : টানা প্রায় তিন ধরে জেরা করে মুর্শিদাবাদের বড়ঞাঁর তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তাঁর বাড়ি বা বাগান থেকে নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করলেও নগদ টাকা পাওয়া যায়নি। তবে জানা গেছে জীবনকৃষ্ণ সাহা ও তাঁর স্ত্রীর মোট ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। রয়েছে আরও একাধিক সম্পত্তি ।
এ ব্যাপারে সিবিআই এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। তবে জীবনকৃষ্ণ সাহা যে এফিডেভিট জমা দিয়েছিলেন তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫ থেকে ২০১৮-১৯ আর্থিক বছর পর্যন্ত তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৩ থেকে ৬ লক্ষ টাকার মতো। তাঁর স্ত্রীর বার্ষিক আয় এই সময়ে ছিল ২ থেকে ৪ লক্ষ টাকার মধ্যে। সেই সঙ্গে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩ কোটি টাকার কিছু বেশি। তবে বার্ষিক আয়ের সঙ্গে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত অর্থের খুব যে সঙ্গতি রয়েছে তা নয়।
জীবনকৃষ্ণ সাহা ও তাঁর স্ত্রীর মোট ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ। তখন কমিশনের কাছে পেশ করা এভিডেভিটে সে সময়ে জীবনকৃষ্ণ জানিয়েছিলেন, তাঁর বন্ধন ব্যাঙ্কের একটি অ্যাকাউন্টে ৪০ লক্ষের সামান্য বেশি কিছু টাকা রয়েছে। বন্ধন ব্যাঙ্কে তাঁর স্ত্রীর একটি অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা। স্টেট ব্যাঙ্কের কুলি শাখায় তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১৪ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া বাকি অ্যাকাউন্টগুলির কোনওটায় ৮ লক্ষ কোনওটায় ৫ বা ৬ লক্ষ টাকা রয়েছে। এ ছাড়াও পোস্ট অফিসে সেভিংস অ্যাকাউন্টে আরও ১৫ লক্ষ টাকা রয়েছে।
শুধু তাই নয়, বিস্ময়ের ব্যাপার হল, যে পরিবারের বার্ষিক আয়ের বহর এরকম, তাদের চারটি ফোর হুইলার তথা চার চাকার গাড়ি ছিল। এর মধ্যে একটি স্করপিও, একটি মারুতি সুইফট ডিজায়ার এবং একটি মারুতি অল্টো। এছাড়া একটি বাজারের মোটর সাইকেল রয়েছে জীবনের।
সিবিআইয়ের গোয়েন্দাদের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলেন জীবনকৃষ্ণ। বহু কোটি টাকা তুলেছিলেন তিনি। জীবনকৃষ্ণকে জেরা করে সেই মানি ট্রেইল এবার খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
