
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিক খুনের পর বেলডাঙা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার সকাল থেকেই বিক্ষোভ, সড়ক ও ট্রেন অবরোধকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা অশান্ত। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরের পথে দমদম বিমানবন্দর থেকে মন্তব্য করেন। বেলডাঙায় বিক্ষোভকারী ‘সংখ্যালঘুদের ক্ষোভ বৈধ’ বলেই দাবি তাঁর।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বেলডাঙায় জানেন কাদের প্ররোচনা আছে। আমি কিছু বলতে চাই না। ফ্রাইডে জুম্মাবার। পবিত্র বার। যেমন শিবেরও বার। দুর্গার বার। সন্তোষী মাতার বার। জুম্মার নমাজ হয়। ধরুন দুর্গাপুজো দেখতে এসেছেন কোটি কোটি লোক। তাঁদের মাঝে যদি মাইক লাগিয়ে দেন তাহলে সবাই শুনবে। ফ্রাইডে জুম্মাবার এমনিই সংখ্যালঘুদের কাছে একটা সেন্টিমেন্ট আছে। সেখানে সবাই ফ্রাইডের জুম্মাবার নমাজ পড়তে এসেছে। যদি কেউ কেউ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে উসকে দেয়। সংখ্যালঘুদের ক্ষোভটা স্বাভাবিক। আমিও এর জন্য ক্ষুব্ধ।” মমতা আরও অভিযোগ করেন যে, এসআইআর তালিকায় মানুষের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “তাদের একতরফা বাদ দিতে পারে না। মতুয়া, রাজবংশী, আদিবাসীদের বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ বদলাচ্ছে। বিএলওরা চাপে পাগল হয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ১০০ জনের মতো মারা গিয়েছেন। এরা ইচ্ছা করে বাংলায় দাঙ্গা লাগাতে এসেছে। বিজেপির পরিকল্পনা এটা। নিজেরা ভোটে পারবে না তাই ঘোঁট পাকাচ্ছে। করছে লুট, বলছে ঝুট।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিযায়ী শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মমতার আশ্বাস,“আমরা এই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছি। আমরা মামলা করেছি। পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্যও করেছি। আপনারা শান্ত থাকুন। ধৈর্য ধরুন। আর যাঁদের ডাকছে তাঁরা ফর্ম জমা দেবেন। দয়া করে দরখাস্ত জমা দিন। আদালতে মামলা হয়েছে। ভরসা রাখুন। আশা করি মানুষ সুবিচার পাবে।” তিনি বিজেপিকে লক্ষ্য করে বলেন, “যা হচ্ছে এগুলি অন্যায়। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই মূলত হচ্ছে। তারপর কী করে ভাবছে বিজেপি বাংলার মানুষের সমর্থন পাবে? নির্লজ্জের দল একটা।”মমতার আবেদন, “সংখ্যালঘু ভাইবোনেদের বলব এসব করবেন না। শান্ত থাকুন। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি।”
