
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রতি বছরের ২১ জুলাই ‘শহিদ দিবস’ পালন করে তৃণমূল। এ বার পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্য জুড়ে ভাল ফলের পরে আরও বড় আকারে কলকাতায় সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল। আর সেই একই দিনে রাজ্য জুড়ে বিজেপি কর্মীদের পথে নামার ডাক দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কলকাতায় দলের মিছিল শুরু হওয়ার আগে এমনই ঘোষণা করেন তিনি। তিনি যখন এই ঘোষণা করেন, তখন তাঁর পাশে ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলায় জেলায় সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ভোট গ্রহণ থেকে গণনা— সবেতেই হয়েছে কারচুপি। এই সব অভিযোগ তুলে বুধবার প্রতিবাদ মিছিল ডেকেছিল বিজেপি। কলকাতা পুলিশ মিছিলের অনুমতি না দিলেও সুকান্ত, শুভেন্দু, দিলীপের নেতৃত্বে দুপুরে মিছিল শুরু হয় কলেজ স্ট্রিট থেকে।
মিছিল শুরুর আগে তিন নেতাই বক্তৃতা করেন। সেখানেই শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘‘আগামী শুক্রবার ২১ জুলাই যেখানে যেখানে ভোটে সন্ত্রাস ও কারচুপি হয়েছে সেই সব জায়গায় বিডিও অফিস ঘেরাও করা হবে।’’ পরে সুকান্তও একই কর্মসূচির ডাক দেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালেও ২১ জুলাইয়ের দিনে বিজেপি হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় একটি সমাবেশের কর্মসূচি নিয়েছিল। কিন্তু অনুমতি দেয়নি পুলিশ। পরে আদালতে গিয়েও অনুমতি না মেলায় সভা করা যায়নি। এ বার একই দিনে কর্মসূচি নিলেও বিজেপি সমাবেশের পরিবর্তে বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখানোর ডাক দিয়েছে, যার জন্য আগাম পুলিশের অনুমতি নেওয়ার দরকার হয় না বলেই বিজেপি সূত্রে দাবি।
বৃহস্পতিবার থেকেই সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হয়ে যাবে। ফলে সুকান্তবাবু ও দিলীপবাবু দিল্লিতে থাকবেন। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিডিও অফিস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি হবে শুভেন্দুবাবুর নেতৃত্বেই। বুধবারের বিজেপি-র জমায়েতেই রীতিমতো হুমকির সুরে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, "বিডিওরা যদি পক্ষপাতিত্ব করে তবে প্রত্যেক বিডিওকে অসুস্থ করে হাসপাতালে ভরতি করার দায়িত্ব বিজেপি নেবে ৷"
এদিন সুকান্ত মজুমদার বলেন, "২১ জুলাই রাজ্যের প্রতি ব্লকে মিছিল হবে৷ জেলায় জেলায় বিডিও অফিস ঘেরাও করা হবে৷" এরপরই তিনি অভিযোগ করে জানান, রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে বিডিওরা ভোট লুঠ করেছেন। রায়গঞ্জে বিডিও অফিসে ঢুকে দেবশ্রী চৌধুরী আধিকারিককে হেনস্থা করেছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে সেই প্রসঙ্গও এদিন তুলে আনেন সুকান্ত মজুমদারআর সেই প্রসঙ্গকে সামনে রেখে এদিন ফের একবার হুঁশিয়ারি শোনা গেল রাজ্য বিজেপি সভাপতির গলায়৷ তিনি বলেন, "বিডিওরা যদি পক্ষপাতিত্ব করে তবে প্রত্যেক বিডিওকে অসুস্থ করে হাসপাতালে ভরতি করার দায়িত্ব বিজেপি নেবে৷ মুখ্যমন্ত্রী নিজের পুলিশকে সুরক্ষা দিতে পারেন না, সে রাজ্যের মানুষকে কীভাবে সুরক্ষা দেবে?"
