
অনিরুদ্ধ সরকার,বাঁকুড়াঃ তিন দিনের জেলা সফর শেষে বাঁকুড়াতেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বাঁকুড়ার বলরামপুর ফুটবল ময়দানে প্রশাসনিক সভাতেই কেন্দ্রের সাথে রাজ্যের সংঘাতের কথা রাজ্যের প্রতি বঞ্চনার কথা সভানেত্রীর গলায় শোনা যায়। যদিও গত কয়েক দিন ধরেই একাধিক সভা থেকেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে বার বার গর্জে উঠতে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। দোরগোড়ায় পঞ্চায়েত ভোট, তার পর বছর ঘুরলেই রয়েছে লোকসভা নির্বাচন। এই আবহে ভোট দেওয়ার পরও বিজেপি উন্নয়নমূলক কাজ করেনি বলে যে অভিযোগ জানিয়ে সরব হলেন মমতা, তা উল্লেখযোগ্য। এই প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, ভোটের সময় বলে উজালা দেব, আর তার পর উজালা হাওয়া। শুধু জিনিসের দাম বাড়ায়। এই জেলার দু’জন সাংসদ রয়েছেন। অধিকাংশ বিধায়কও তো বিজেপির। কিন্তু কী করেছে বাঁকুড়ার জন্য? আজ পর্যন্ত উন্নয়ন হয়নি। ভোটের সময় আসে। আর ভোট নিয়ে পালিয়ে যায়।
বাঁকুড়ায় মোট ১২টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে বাঁকুড়া, শালতোড়া, ছাতনা, ওন্দা, বিষ্ণপুর, কোতুলপুর, ইন্দাস, সোনামুখী— এই ৮ কেন্দ্রে বিজেপির বিধায়ক রয়েছেন। বাঁকুড়া এবং বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রে ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে পদ্ম প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির সুভাষ সরকার এবং সৌমিত্র খাঁ।বাঁকুড়ায় সরকারি পরিষেবা প্রদানের অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে আন্দোলনের মধ্যেই শুক্রবার সেই প্রসঙ্গ তুলেছেন মমতা। বলেছেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও ৩ শতাংশ ডিএ দিয়েছি।’’ গত বুধবার রাজ্য বাজেটে ৩ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তাতে ক্ষোভ মেটেনি সরকারি কর্মচারীদের একটা বড় অংশের। বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন। অনশন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়েছেন কয়েক জন। বকেয়া ডিএ না মেটালে পঞ্চায়েত ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা। বকেয়া ডিএ না মেটালে আগামী ২০- ২১ ফেব্রুয়ারি রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশ। এই আবহে বাঁকুড়ার সভায় ডিএ প্রসঙ্গ টানলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবারও মমতা বলেছেন, আমি জাদুকর নই। টাকা জোগাড় করতে হয়। পাশাপাশি বলেন, ‘‘১০০ দিনের কাজের টাকা দিচ্ছে না। বলছে রাস্তা হবে না। যেন পকেটের টাকা দিচ্ছে! আমাদের টাকা আমাদের দিচ্ছে না। বলছে বাংলাকে ভাতে মারো। এত সহজ নয়। বাংলার মানুষ ভিক্ষা চায় না। সম্মান চায়।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কেন্দ্রের সরকার গরিব মানুষকে দেবে না, সাধারণ মানুষকে দেবে না। সব আদার ব্যাপারীদের দেবে। বলে বাংলার বাড়ি হবে না। রাস্তা হবে না। যেন মনে হচ্ছে ওদের বাপের টাকা। আমাদের এখান থেকে টেক্স তুলে নিয়ে যায়। এটা আমাদের টাকা। আমাদের এখান থেকে টাকা তুলে নিয়ে যায়। আর রাজ্যকেই টাকা দেয় না। রাজ্যের প্রতি যতই বঞ্চনা করুন মানুষ তাঁকে ভালবাসে। মানুষের প্রতিও তাঁর দায়বদ্ধতা আছে বলেই দলনেত্রী এদিন দাবী করেন।
