
বোলপুর, ৫ মে : ফের বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে শান্তিনিকেতন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের। 'শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের' সম্পত্তি জবরদখল করে নেওয়ার অভিযোগ দায়ের করল বিশ্বভারতীর এক অধ্যাপক সহ প্রাক্তনকর্মী ও বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতির লোকজন৷
প্রসঙ্গত, অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদের হুঁশিয়ারির বিরুদ্ধতায় পথে নেমেছেন বহু মানুষ। তারপ্রেক্ষিতে আশ্রম এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত ও উপাচার্যের প্রাণসংশয়ের আশঙ্কায় বোলপুর মহকুমা শাসক ও শান্তিনিকেতন থানায় পৃথক চিঠি দিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে অশান্তির পথে নিয়ে যেতে পারেন উপাচার্য, এই মর্মেই এদিন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ১৩ দশক জমি দখল করে রেখেছেন৷ বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের এই অভিযোগ নিয়ে সরব শিক্ষাবিদ থেকে শুরু করে আশ্রমিক, সমাজকর্মী, নাট্যকর্মী, অর্থনীতিবিদ সহ বিদ্বজ্জনেরা। 'ভারতরত্ন' অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদের হুঁশিয়ারির বিরুদ্ধে পথে নামছেন এক এক করে বিভিন্ন সংগঠন। ইতিমধ্যেই যদিও, কলকাতা হাইকোর্ট জমি খালি করার বিশ্বভারতীর নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে৷
বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর ভূমিকা নিয়ে সরব হতেই বোলপুর মহকুমা শাসক ও শান্তিনিকেতন থানায় দুটি পৃথক চিঠি দেওয়া হয়৷ বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব মানবেন্দ্রনাথ সাহা বোলপুর মহকুমা শাসকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেন, "অমর্ত্য সেনের জমি সংক্রান্ত বিষয় বিচারাধীন। এমত অবস্থায় মিছিল, ধর্না, বিক্ষোভ, আন্দোলন হলে বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসে শান্তি বিঘ্নিত হবে৷ শান্তিশৃঙ্খলার অবনতি হবে৷ তা রুখতে এগুলো বন্ধ করা হোক "
শান্তিনিকেতন থানায় দেওয়া চিঠিতে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, "একটি প্রতিবাদমূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে৷ যাতে উপাচার্য ও বিশ্বভারতীর আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বলা হচ্ছে৷ এর ফলে উপাচার্য সহ আধিকারিকদের প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা থাকছে।"
এই দুই চিঠির প্রক্ষিতে এদিন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে শান্তিনিকেতন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হল। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, "উপাচার্য ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন৷ শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন হচ্ছে, প্রতিবাদ হচ্ছে৷ উপাচার্যের উদ্দেশ্য ভারাটে গুণ্ডা এনে অশান্তি সৃষ্টি করা। তাই এই ধরনের আগাম অভিযোগ তুলছেন৷ এছাড়া, উপাসনা গৃহ থেকে শুরু করে ছাতিমতলা শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পত্তি৷ এগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় নানাট বিতর্কিত উক্তি করেছেন তিনি৷ নিয়ম অনুযায়ী ট্রাস্টের সদস্যও হননি উপাচার্য। 'শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের' সম্পত্তি জবরদখলকারী উপাচার্য বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হোক৷"
বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য, কর্মীসভার প্রাক্তন সভাপতি গগন সরকার, বোলপুরের বাসিন্দা তথা ব্যবসায়ী সমিতির অন্যতম সুনীল সিং, সুব্রত ভকত ও আমিনূল হুদা এই অভিযোগ দায়ের করেন৷ অর্থাৎ, এবার বিশ্বভারতীর উপাচার্যের বিরুদ্ধে জবরদখলের অভিযোগ উঠল৷
