
গুয়াহাটি, ২৭ মার্চ : হীরেণ গোহাঁই এবং অজিতকুমার ভূঞা কংগ্ৰেসের ‘বি’ টিম হিসেবে রাহুল গান্ধীর উদ্ধার অভিযানে অবতীর্ণ হয়েছেন। এভাবেই আজ এই দুই ব্যক্তির কটাক্ষ করেছে অসম প্রদেশ বিজেপি।
আজ সোমবার গুয়াহাটির বশিষ্ঠ এলকায় ভারতীয় জনতা পাৰ্টির অসম প্ৰদেশ সদর কার্যালয়ে দলের প্রদেশ মুখপাত্ৰ রূপম গোস্বামী এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, কংগ্ৰেসের সর্বভারতীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজের সঙ্গে বিজেপি তথা সরকারের কোনও হাত নেই। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ‘রিপ্ৰেজেন্টেশন অব দ্য পিপলস অ্যাক্ট ১৯৫১’-এর অধীনে রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ হয়েছে। এই নিয়ম পবিত্ৰ সংসদে বহুদিন থেকে চলছে, আজ নতুন নয়। মুখপাত্ৰ গোস্বামী বলেন, গান্ধী পরিবারের শরণাপন্ন একাংশ দল-সংগঠনের সঙ্গে তথাকথিত ব্যক্তিও এ ঘটনাকে সহজে নিতে পারেননি। এবার তথাকথিত বামপন্থী বুদ্ধিজীবী ড. হীরেণ গোহাঁই এবং সাংসদ (রাজ্যসভা) অজিতকুমার ভূঞা কংগ্ৰেসের বি টিমের রূপে রাহুল গান্ধীকে উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়েছেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলি এ ব্যাপারে বিরোধিতা করবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বুদ্ধিজীবী ড. হীরেণ গোহাঁই কংগ্ৰেসের পক্ষাবলম্বন করে ধরনায় বসার ঘটনা সন্দেহের অবকাশ আছে। সাংসদ হিসেবে অযোগ্য রাহুল গান্ধীর পক্ষাবলম্বন করে ড. গোহাঁই বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন।
প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্ৰ আরও বলেন, সংসদের প্ৰচলিত নিয়ম-নীতির বলে সাংসদ পদ খোয়ানো ব্যক্তি কেবল রাহুল গান্ধীই নন, এর আগে ২০১৩ সালে আরজেডি-র সাংসদ লালুপ্ৰসাদ যাদব, জেডি (ইউ) সাংসদ জগদীশ শৰ্মা, ওই সালের সেপ্টেম্বরে কংগ্ৰেসের রাশেদ মাসুদ এবং নভেম্বরে মধ্যপ্ৰদেশের বিজেপি বিধায়ক আশা রানি, ২০১৪ সালে ঝাড়খণ্ডের বিধায়ক এনস এক্কা, ওই সালের মাৰ্চে শিবসেনার বিধায়ক বেবেনরাও ঘলাপ এবং এপ্ৰিল মাসে ডিএমকে-র সাংসদ টিএম সেলভাগানাপাথে, মে’তে মহারাষ্ট্ৰে বিজেপি বিধায়ক সুরেশ হালভাঙকার, ২০১৫ সালে এজেএসইউ বিধায়ক কমল কিশোর ভাগবত এবং ২০১৭ সালে এআইএডিএমকে নেত্ৰী জে জয়াললিতা সহ ১০ জন বিধায়ক ও সাংসদের পদ খারিজ হয়েছিল।
রূপম বলেন, ১০ জন বিধায়ক ও সাংসদ তাঁদের পদ খোয়ালেও সে সময় ভারতের জনসাধারণ আজকের মতো কোনও প্ৰতিবাদী কর্মসূচি পালন করেননি। তখন কোনও দলও সত্যাগ্ৰহ করেনি এবং তথাকথিত কোনও বুদ্ধিজীবীও সরব হননি।
প্রসঙ্গক্রমে বিজেপি মুখপাত্ৰ গোস্বামী বলেন, কোনও সম্প্ৰদায় বা ব্যক্তি বিশেষকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা রাহুল গান্ধীর নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর মহারাষ্ট্ৰের এক অনুষ্ঠানেও রাহুল গান্ধী বীর সাভারকারকে নিয়ে আপত্তিকর ও কটূ মন্তব্য করে তাঁকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলন। যে সাভারকারের অবদানকে তদানীন্তন প্ৰধানমন্ত্ৰী স্বয়ং ইন্দিরা গান্ধী স্বীকার করেছেন। সেই ব্যক্তিকে সম্মান দিতে না জানার ঘটনা রাহুল গান্ধীর অজ্ঞানতার পরিচয়। তিনি বলেন, এছাড়া আজ থেকে কয়েকমাস আগে রাহুল গান্ধী টুইটারের মাধ্যমে ভারতবৰ্ষকে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত, গুজরাট থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত এক অঞ্চল বলে তাঁর জ্ঞানের প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। কেবল তা-ই নয়, অতি-সম্প্রতি লন্ডনের এক অনুষ্ঠানে মনেগড়া মন্তব্য করে ভারতবৰ্ষের গণতন্ত্ৰ নিয়ে আঙুল তুলেছিলেন কংগ্রেসের এই নেতা। এমন এক ব্যক্তিকে অসমের কথিত বুদ্ধিজীবী ড. হীরেণ গোহাঁই ‘ভারতীয় গণতন্ত্ৰ আশা- আকাঙ্ক্ষার প্ৰতীক’ বলে অভিহিত করার বিষয় অতিশয় চিন্তনীয়।
রূপম গোস্বামীর বক্তব্য, হীরেণ গোহাঁই সর্বকালেই অসমিয়া সমাজের পরিপন্থী রূপে অবতীৰ্ণ হয়ে আসছেন। অসম আন্দোলনের বিরুদ্ধাচরণকারী ড. গোহাঁই এনআরসি-র বিরোধিতা করে জমিয়ত উলেমার নেতা মাদানি সঙ্গে দিল্লিতে এক আসনে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। ওই এনআরসিকে অশুদ্ধ বলে ঘোষণা করার পর আবার সেই এনআরসিকে শুদ্ধ বলে সমৰ্থন করছেন। তাই এমন এক ব্যক্তির চিন্তাধারা কখনও সমাজের উপকারে আসতে পারে না।
এদিকে সাংসদ অজিত ভূঞার সমালোচনা করে রূপম গোস্বামী বলেন, নিজের স্বাৰ্থ পূরণের জন্য অশুভ শক্তির শরণাপন্ন হওয়ার প্রবণতা অজিত ভূঞার বহু পুরনো। আইএমডিটি আইন বাতিলের বিরোধিতা করে ভূমিষ্ঠ এআইইউডিএফ তথা বদরউদ্দিন আজমলের শরণাগত হয়ে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত অজিত ভূঞা নিশ্চয় ব্যক্তিগত গোপন অভিসন্ধি নিয়ে কংগ্ৰেরে পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ বিজেপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক দেওয়ান ধ্ৰুবজ্যোতি মরল এবং সহ-আহ্বায়িকা কৃষ্ণা নাথ উপস্থিত ছিলেন।
