
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতে বিজেপি বিরোধী একটা মঞ্চ তৈরি না হলে এক তৃতীয়াংশ ভোট পেয়েও বিজেপি গদিতে বসবে। এই উপলব্ধি থেকেই বিজেপি বিরোধী শক্তিকে একটা জায়গায় আনার অনেক চেষ্টাই করা হচ্ছে। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। রাহুল গান্ধীর 'ভারত জোড়ো' অভিযানের পরে এই দাবি আরো সোচ্চার হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই সিপিএমের সম্মেলনে একযোগে সেই বার্তা দিলেন নীতীশ কুমার, তেজস্বী যাদব-রা। কংগ্রেসের নেতৃত্বে সবাই এক হলে যে বিজেপির প্রতিরোধ ধোপে টিকবে না, তাও জানিয়ে দিল বিহারের 'বিরোধী'-মঞ্চ। বিহারের পাটনায় সিপিএমের সাধারণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। সেই অনুষ্ঠানের প্রকাশ্য সমাবেশে আদতে বিরোধী ঐক্যের বাতাবরণ তৈরি হল। সিপিএমের সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমার, আরজেডি প্রধান তেজস্বী যাদব, কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ। এছাড়া সিপিএম, সিপিআই. সিপিআইএমএল-সহ বামপন্থী সমস্ত দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। যদিও সমস্যা আছে তৃণমূলকে নিয়ে। সাংসদের সংখ্যার নিরিখে তৃণমূল দেশের তৃতীয় শক্তি। কিন্তু বিরোধী ঐক্য নিয়ে তাদের সুর স্পষ্ট নয়।
সিপিএম একটা চেষ্টা শুরু করেছে, অসাম্প্রদায়িক সমস্ত শক্তিকে এক ছাতার তলায় আনার। রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ে যাত্রায় যেমন বিভিন্ন পার্টির নেতারা উপস্থিত হয়েছিলেন, তেমনই সিপিএমের সম্মেলনেও বিহারের মহাজোটের সমস্ত দলের হাজিরা আক্ষরিক অর্থেই ২৪-এর আগে মহাজোটের রূপরেখা তৈরি করে দিল। সিপিএমের সম্মেলনের প্রকাশ্য় সমাবেশে নিজের বক্তব্য রাখার সময় জেডিইউ সুপ্রিমো তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার জোট বার্তায় সবাইকে একযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধীরা একজোট হলে বিজেপি মুহূর্তে চলে যাবে।
নীতীশ কুমার মনে করেন, বিরোধীরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে পারে, তবে বিজেপি ১০০-র নীচে নেমে যাবে। সে জন্য কংগ্রেসকে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। কংগ্রেসকে এগিয়ে আসতে হবে বিরোধী দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করতে। এই বিষয়ে সিপিএমের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। সম্প্রতি ভারত জোড়ো যাত্রা করে দেশে আলোড়ন তুলে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তারপর জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমার ও তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে বাকি জোটসঙ্গীরা কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী ঐক্য গঠনের যে ডাক দিল, তা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বিহারের মহাজোটে শামিল দলগুলির পক্ষ থেকে যে দাবি উঠল, তাতে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমোর চাপ বাড়বে।কারণ মমতা কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিরোধী জোট করার পক্ষে। কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিরোধী জোট বাস্তব নয়, তা প্রায় সকলেই বুঝিয়ে দিয়েছেন।
