
কলকাতা, ১৮ জুলাই: মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুর বৈঠকে অবিজেপি রাজনৈতিক দলগুলি দফায় দফায় বৈঠকে বসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই পৌঁছে গিয়েছেন সেখানে। মঙ্গলের মেগা বৈঠকের আগে সোমবার সন্ধেয় বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে চিঠি পাঠিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।
বকেয়া মহার্ঘভাতার দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনের বিষয়টি জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে অরবিন্দ কেজরীবালদের কাছে। ২৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে তাঁদের আন্দোলন। ১৭২ দিন ধরে চলছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আন্দোলন। আর এই বিষয়টি যাতে মঙ্গলবারে বৈঠকে অন্য বিরোধী দলগুলি তুলে ধরে, সেই আর্জি জানানো হয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে।
চিঠিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের ‘বঞ্চনার’ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। লিখেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার যেখানে ৪২ শতাংশ হারে মহার্ঘভাতা দেওয়া হচ্ছে, রাজ্যে সেখানে ৬ শতাংশ হারে মহার্ঘভাতা পাচ্ছে সরকারি কর্মচারীরা।
শুধু তাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শূন্যপদ পড়ে রয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। সেই কথাটিও লেখা হয়েছে চিঠিতে। ভাস্কর ঘোষ আরও লিখেছেন, স্থায়ী নিয়োগের বদলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের উপর রাজ্য সরকার জোর দিচ্ছে।
সূত্রের খবর, মঞ্চের এই দাবির প্রেক্ষিতে সরকারিভাবে আলোচনা ও কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে বল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।
বকেয়া ডিএ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে চাপান উতোর চলছে। গত ৫ জুলাই পূর্ব বর্ধমানের বৈদ্যপুরের রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠের মাঠের সভা থেকে অভিষেক বলেন, '১০ লক্ষ মানুষ নিয়ে আমরা দিল্লি যাব। নিজেদের অধিকার আদায়ে ধর্না অবস্থান করব। আগামী দু'মাসের মধ্যে এই কর্মসূচির ব্যবস্থা আমিই করব। সবাইকে সেখানে যেতে হবে।' এর পর তিনি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন,'বিজেপির নেতারা বলছে দিল্লিতে নাকি অমিত শাহের পুলিশ। আমাদের ৬ ফুট লাঠি দিয়ে মারবে। ওদের কত সাহস যে বাংলার মায়েদের মারবে। ওদের ডান্ডা ভেঙে যাবে মায়েদের মেরুদ্ণ্ড ভাঙবে না। দিল্লি কেন, আমেরিকা থেকে পুলিশ আনলেও বাংলার মানুষের মেরুদণ্ড ভাঙবে না।' এই সময় তিনি ইঙ্গিত দেন সেই ধর্নায় দলনেত্রীও উপস্থিত থাকবেন। অভিষেক বলেন,' দিল্লিতে ওই ধর্নায় প্রয়োজনে আমাদের নেত্রীও উপস্থিত থাকবেন।' যদি ওই ধর্নায় মমতা উপস্থিত থাকেন তবে আগামী বছর আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে তা তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
