
কলকাতা, ২৭ মার্চ : তিলজলায় শিশুকন্যাকে নৃশংস খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় উত্তপ্ত তিলজলা। বন্ডেল গেটে অবরোধের জেরে গড়িয়াহাট ও বালিগঞ্জে ব্যাহত যানচলাচল। রেল অবরোধও করেন বিক্ষোভকারীরা। তার জেরে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় ব্যাহত ট্রেন চলাচল। ভোগান্তির শিকার নিত্যযাত্রীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিশাল পুলিশবাহিনী। পিকনিক গার্ডেনে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়া হয়। বাধ্য হয়ে পালটা পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলেই অভিযোগ।
বুকে পোস্টার লাগিয়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী রাস্তায় বসে পড়েন। দিতে থাকন স্লোগান। আবার বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী পিকনিক গার্ডেন-হাওড়া রুটের একটি বাসের ছাদেও উঠে পড়েন। তাঁদের দাবি, শিশুমৃত্যুতে অভিযুক্তকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তিলজলা এলাকার শ্রীধর রায় রোডে শিশুকন্যার পরিবার থাকে। রবিবার সকাল থেকেই সাত বছরের ওই শিশুকন্যাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ক্রমে পরিবার ও প্রতিবেশীরা সব জায়গায় খুঁজতে শুরু করেন। কোথাও না পেয়ে দুপুর ১২টা নাগাদ থানায় যান। পুলিশ আইন মেনে অপহরণের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। যদিও এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, প্রথমে বাইকে করে পুলিশ টিম এলেও ভাল করে তদন্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের দাবিতে ওই অঞ্চলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করতে গিয়েই দেখা যায়, বাড়ির ভিতর প্রবেশ করছে শিশুকন্যা। ওই বহুতলের একতলায় রয়েছে একটি গেঞ্জি কারখানা। কারখানাটিতে তল্লাশি চালিয়ে কিছু উদ্ধার হয়নি। যদিও পুলিশ জানতে পারে যে, কারখানার অনেক কর্মী বহুতলের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে থাকেন। পরে পুলিশ ওই বহুতলের প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটে চিরুনি তল্লাশি চালায়। এরপর অলোক কুমারের ফ্ল্যাটে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। বস্তায় হাত দিয়েই নরম কিছু অনুভব করেন পুলিশকর্মীরা। তার উপর বস্তাটি ভিজে দেখেও তাদের সন্দেহ হয়। তড়িঘড়ি সেটি খুলতেই বেরিয়ে পড়ে শিশুকন্যার দেহ। অভিযুক্ত খুনের কথা স্বীকার করে। বাবা হওয়ার আশায় তান্ত্রিকের নির্দেশে সে ওই শিশুকে খুন করেছে বলেই জানায়। অভিযুক্ত তান্ত্রিকের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।
