
কলকাতা, ১৭ মার্চঃ শুক্রবার শিয়ালদহ মেন শাখায় ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। ইন্টারলকিংয়ের কাজ চলছিলই। সেই সঙ্গে দোসর হল কালবৈশাখী। শুক্রবার সকাল থেকে কার্যত বন্ধ ছিল শিয়ালদহ মেন শাখার ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল। সকাল ৮টা নাগাদ ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
শুক্রবার উচ্চমাধ্যমিকের হেলথ কেয়ার, অটোমোবাইল, সিকিউরিটি, তথ্য প্রযুক্তি প্রভৃতি বৃত্তিমূলক বিষয়ের পরীক্ষা। ফলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকা ভীষণ জরুরি। রেল সূত্রের খবর, যত দ্রুত সম্ভব ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। কল্যাণী চত্বরে নন ইন্টারলকিং-এর জায়গা-সহ একাধিক স্থানে রেল কর্মীরা নজরদারি চালান। রেল সূত্রে খবর, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় যাতে ট্রেন কোনওরকম বিলম্ব না করে সেদিকে লক্ষ রাখতে বলা হয় কর্মীদের।
নৈহাটি, হালিশহর, কাঁচরাপাড়ার নন-ইন্টারলকিংয়ের কাজ শেষে বৃহস্পতিবার কল্যাণীর ইন্টারলক খোলা শুরু হয়। নৈহাটিতেই এই কাজের সময় বেশি লেগেছিল, কারণ সেখানে ১৬৬টি মোটর পয়েন্ট রয়েছে। এই পয়েন্ট হালিশহরে ২৮টি, কাঁচরাপাড়ায় ৬টি থাকায় কম সময়ে কাজ সারা হয়েছে। তবে কল্যাণীতে পয়েন্টের সংখ্যা ৫৮। ফলে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে। এর মধ্যে দোসর হয়ে দেখা দেয় কালবৈশাখী।
বৃহস্পতিবার শহরতলিতে মরশুমের প্রথম ঝড়বৃষ্টি হয়। তাতে একাধিক জায়গায় রেল লাইনে তার ছিঁড়ে যায়। যার জেরে যে কটা লোকাল ট্রেন চলছিল, সেটাও চালানো যায়নি। সকাল ৮টা পর্যন্ত নৈহাটি থেকে শিয়ালদহগামী সব ট্রেন কার্যত বন্ধ ছিল।
ডাউন লাইনে প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয় ৭ টা ৪০ থেকে। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের বারাকপুর লোকালের আগে শিয়ালদহগামী কোনও ট্রেন চলেনি। তারপর ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও সেটা ভীষণ অনিয়মিত। যার জেরে প্রতিটি ট্রেনেই অসম্ভব ভিড় ছিল। বহু স্ট্রেশনে যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে পারছেন না। যার ফলে অফিসযাত্রীরা তো বটেই, সমস্যায় পড়ছেন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরাও।
