
কলকাতা, ১০ মার্চঃ আঁটসাঁট নিরাপত্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে শুক্রবার এসএফআইয়ের মিছিল পৌঁছে যায় বিধানসভার দোরগোড়ায়। ব্যারিকেড ভেঙে বিধানসভার গেটে উঠে পড়েন এসএফআইয়ের একাধিক সমর্থক। শুরু হয় দক্ষযজ্ঞ। রাজ্যের কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদের নির্বাচন-সহ একাধিক দাবিতে শুক্রবার বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছিল এসএফআই। স্থির হয়েছিল হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে দু’টি মিছিল বিধানসভার দিকে যাবে। কলকাতা পুলিশ এ দিন মিছিল করার অনুমতি দেয়নি। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে শুক্রবার শিয়ালদহ এবং হাওড়া থেকে মিছিলের আয়োজন করে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই।
এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, অনুমতি না মিললেও, মিছিল হবেই। বড়সড় কোনও ঝামেলা হতে পারে এই আশঙ্কায় হাওড়া এবং শিয়ালদহে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল শুক্রবার সকাল থেকেই। হাওড়া স্টেশনের বাইরে, হাওড়া ব্রিজ এবং অন্য দিকে, শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে পুরো নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়। শিয়ালদহ স্টেশনে এক এক করে এসএফআই সমর্থকরা জমায়েত হচ্ছিলেন মিছিলের জন্য। কিন্তু তার আগেই সেই মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় কলকাতা জেলার এসএফআইয়ের সভাপতি দেবাঞ্জন দে এবং সম্পাদক আসিফ নিসারকে। তাঁদের গ্রেফতারের সময় পুলিশের সঙ্গে এসএফআই সমর্থকদের কিছুটা ধস্তাধস্তিও হয়।
শিয়ালদহ স্টেশন থেকে এসএফআইয়ের মিছিল পুরোপুরি আটকাতে পারেনি পুলিশ। শুরুতে সমর্থকদের সঙ্গে একপ্রস্ত ধস্তাধস্তি হয়। বেশ কয়েক জন সমর্থককে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুরুতে সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসএফআইয়ের বহু সমর্থক শিয়ালদহে জড়ো হন। তার পরই ভিড় পুলিশের নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ করে শিয়ালদহ থেকে কলেজ স্ট্রিট হয়ে ধর্মতলার দিকে এগোতে শুরু করে।
এর পর বিধানসভায় বেশ কিছু এসএফআই সমর্থক পৌঁছে যান। সে সময় বিধানসভা ভবনের ফটকের সামনে গুটি কয়েক পুলিশ ছিলেন। সমর্থকরা বিধানসভার ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখনই পুলিশ তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এর পরই সেই নিরাপত্তা ভেঙে কয়েক জন সমর্থক বিধানসভার গেটে উঠে পড়েন। গেট ধরে ঝাঁকাতে থাকেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশবাহিনী আসে। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। এসএফআইয়ের সমর্থকদের প্রিজ়ন ভ্যানে টেনেহিঁচড়ে তোলা হয়।এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য এই মিছিল প্রসঙ্গে বলেন, “পুলিশ বলেছিল মিছিল করতে দেবে না। আমরা মিছিল করেছি। বিধানসভায় যেতে দেব না বলেছিল। কিন্তু আমরা পৌঁছে প্রমাণ করেছি।”
