
কলকাতা, ৪ মার্চ : পুলিশ দিয়ে আইনজীবী তথা প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র কৌস্তভ বাগচীকে গ্রেফতার করা ঠিক হল না বলে মন্তব্য করলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। শনিবার সাত সকালে ব্যারাকপুরের বাড়ি থেকে কৌস্তভকে গ্রেফতার করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যাকে আক্রমণ করার অভিযোগেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেন আইনজীবী। একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাও রুজু হয়েছে। কৌস্তভের গ্রেফতারির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন একাধিক তৃণমূল নেতা। এরই মধ্যে তৃণমূলের মুখপাত্রের গলায় অন্য সুর! সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তাঁর আপত্তি কারণ জানালেন কুণাল ঘোষ।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “কৌস্তভ বাগচীর গ্রেফতার সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত মতামত। ও অন্যায় করেছে। মাতৃসমা মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্কে ওই ধরনের চরম কুৎসা বরদাস্ত করা যায় না। আমাদের ছাত্র- যুবরা কৌস্তভের অসভ্যতা বুঝে নিতে পারত। কিন্তু, পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার ঠিক হল না। এতে কৌস্তুভ প্রচার পাবে।"
তিনি আরও লেখেন, “বিরোধী শক্তির অশুভ আঁতাত কুৎসিত রাজনীতির হাতিয়ার হবে। একাংশের মিডিয়ার পক্ষপাতদুষ্ট প্রচারের মুখ হবে। কিছু মানুষের সহানুভূতি পাবে।গ্রেফতারকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করবে তারা।”
বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের গ্রেফতার প্রসঙ্গেও উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, "যেদিন পুলিশ সজলের বাড়ির দরজা ভেঙেছিল, আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। পরে প্রমাণিত হয়েছে আমার প্রতিবাদ সঠিক ছিল। লাভ হয়েছিল সজলের। মধ্য কলকাতায় একটি ওয়ার্ড জিতেছিল বিজেপি। সেদিন পুলিশি অভিযানের ধরন ছিল ভুল।"
কৌস্তভের গ্রেফতারির বিরোধিতা করে কুণাল ঘোষ লিখেছেন, “এতে ওর এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক লাভ হবে। কৌস্তভ অন্যায় করেছে। ওর অপরিণত, অসৌজন্য কথা বলার প্রবণতা রয়েছে। কিন্তু তার জবাব রাজনৈতিকভাবে আমাদের ছাত্রযুবরা দিতে পারত। পুলিশি অভিযান ঠিক হল না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সজলের দরজা ভাঙার ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল।"
শনিবার সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচীকে। তাঁর গ্রেফতারির পরেই সরগরম রাজ্য রাজনৈতিক মহল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন তিনি, এই দাবিতে সুর চড়িয়েছেন রাজ্য শাসক দলের নেতারা। যদিও পালটা সরব বিরোধীরা। কৌস্তভের গ্রেফতারির পরেই বিরোধীরা দাবি করছেন, পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরই মধ্যে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের এই পোস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
