
কলকাতা, ৩০ ডিসেম্বর : হাওড়ায় বন্দে ভারতের উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে পৌঁছতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে উল্টোদিকে প্ল্যাটফর্ম থেকে উড়ে আসে জয় শ্রীরাম স্লোগান। যা নিয়ে দৃশ্যতই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন তিনি। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা তাঁকে ও বিজেপিকে কটাক্ষ করেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ।
মুখ্যমন্ত্রী যখন তাঁর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তখন রেলমন্ত্রী সহ একাধিক বিজেপি নেতা-মন্ত্রী মঞ্চ থেকে নেমে এসে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও সেই পথে হাঁটেননি শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা, জন বার্লা, নিশীথ প্রামাণিকরা বসে ছিলেন মঞ্চেই। প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়ালি হাজির থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম প্রথম ভারত এক্সপ্রেস উদ্বোধনের পরই শুরু হয়ে যায় তরজা।
মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতার আক্রমণকে অবশ্য পাত্তা দিতে নারাজ তৃণমূল। তাঁকে 'কাল কা যোগী' বলেই কটাক্ষ করেছেন কুণাল ঘোষ। পাশাপাশি বিজেপি শিবিরকে আক্রমণ করে তাঁর কটাক্ষ, 'রামকে নিয়ে অসভ্যতা করছে বিজেপি। সব কিছুরই একটা স্থান-কাল-পাত্র রয়েছে। আর বিজেপি তো বন্দে ভারতকে আসলে ধন্দে ভারতে পরিণত করেছে।'
গেরুয়া শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ”রামকে অপমান করছে। নিশ্চিতভাবে মন্দিরে, বাড়িতে পবিত্র হয়ে তাঁর নাম নেওয়া উচিত। কিন্তু উত্যক্ত করার জন্য, রেষারেষি করার জন্য, ছ্যাবলামি করার জন্য রামের নাম নেওয়া উচিত নয়। মুখ্যমন্ত্রীর সামনে যে অসভ্যতা করেছে, তাতে যদি তৃণমূল চায়, ভরিয়ে দেবে, তাদের গলা টিপে দেবে। কিন্তু আমরা সৌজন্য দেখাচ্ছি। বিজেপি দলটা সৌজন্যের যোগ্যই নয়। মুখ্যমন্ত্রী তো নিজে হিন্দু এবং পুজো করেন। এটা নিয়ে ওনার সামনে ছ্যাবলামি করা হচ্ছে। এই করে ওনাকে অপমান করছে না, রামকে অপমান করছে।” প্রসঙ্গত, নেতাজি জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আগেও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে তৈরি হয়েছিল একইরকম পরিস্থিতি।
