কলকাতা

Kolkata: কোভিড-সংক্ৰমণ বাড়লেও উদাসীন মানুষ, মাস্ক-হীন মুখই চিন্তা বাড়াচ্ছে

কলকাতা, ২৫ অক্টোবর : বাড়তে বাড়তে হাজারের ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক করোনা-সংক্ৰমণ। পুজোর সময় মাত্রাতিরিক্ত ভিড় দেখেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করেছিলেন, পুজো শেষ হলেই করোনার দাপট আরও বাড়বে। হয়েছেও তাই। শেষ ২৪ ঘন্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৮৯ জন। করোনার এই বাড়বাড়ন্তের মধ্যে সবথেকে বেশি চিন্তা বাড়াচ্ছে মাস্ক-হীন মুখ। মানুষের উদাসীনতার জন্য আবারও না ভুগতে হয় রাজ্যবাসীকে! শহরের যে কোনও বাজারে ঢু মারলেই দেখা যাবে, ক্রেতা হোক অথবা বিক্রেতা কারও মুখে মাস্ক নেই। কেউ বা মাস্ক নামিয়ে রেখেছেন, করোনা-বিধি শিকেয় তুলে। সামাজিক দূরত্ববিধি না মেনে চলা তো দূরের কথা। শুধুমাত্র কলকাতা নয়, শহরতলি ও গ্রাম বাংলাতেও একই অবস্থা।

আরও বেশি চিন্তা বাড়াচ্ছে লোকাল ট্রেনের (স্টাফ স্পেশাল) ভিড়। নামেই চলছে স্টাফ স্পেশাল ট্রেন, স্বল্প ট্রেনের কারণে প্রতিটি ট্রেনেই বাড়ছে মাত্রাতিরিক্ত ভিড়। করোনা-বিধি মেনে চলা তো দূরের কথা! যাত্রীরা যে সচেতন, তাও বলা যাবে না। কারণ অধিকাংশ যাত্রীর মুখেই দেখা যায় না মাস্ক। রেলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, মাস্ক না পরলেই জরিমানা। কিন্তু, রেলের এই নির্দেশিকাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়েই উদাসীন মানুষের ভিড় বাড়ছে স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে। অনেক যাত্রী আবার ভিড় থেকে বাঁচতে লোকাল ট্রেন চালু করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছেন।

করোনার এই বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবার প্রশানকেই সতর্ক হতে হবে, বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই রাত্রিকালীন কড়াকড়ি শুরু করেছে কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পুলিশ। কিছুদিন ধরেই রাত এগারোটার পর কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের নাকা তল্লাশি চালানো হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে। গাড়ি থামিয়ে নথি পরীক্ষা, জিজ্ঞাসাবাদ করছেন পুলিশ কর্মীরা। মাস্ক না পরলেই করা হচ্ছে জরিমানা। কলকাতার পাশাপাশি করোনার দাপট বাড়ছে হুগলি জেলাতেও। হুগলির উত্তরপাড়া পুরসভার ৭টি ওয়ার্ডকে কনটেনমেন্ট জোন চিহ্নিত করা হয়েছে। বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকে চলছে প্রচার। মাস্ক না পরলে জরিমানা করছে চন্দননগর কমিশনারেট। আবার আরামবাগ পুর এলাকায় বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। ১, ৩, ১৩ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডকে কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে। পুরশুড়ার ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতকেও কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে।