রাজ্য

জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারকেশ্বর মন্দিরের সাথে যুক্ত হাজারখানেক পরিবার

তারকেশ্বর : আসন্ন শ্রাবণ মাসে বাঙালী শিবভক্তদের জন্য সব থেকে আকাঙ্খিত নিকটবর্তী তীর্থক্ষেত্রের নাম বাবা তারকেশ্বর মন্দির। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় অবস্থিত এই বিখ্যাত শিব মন্দিরে সারা বছরই শিব ভক্তদের সমাগম লেগে থাকলেও ফাল্গুন মাসের শিবরাত্রি, চৈত্রের গাজন এবং শিবের জন্মমাস হিসাবে শ্রাবণ মাসে লক্ষাধিক ভক্তের ঢ্ল নামে এই শিব মন্দিরে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই মন্দির কে কেন্দ্র করে জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার পরিবারের জীবন জীবিকা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর থেকে লকডাউনের জাঁতাকলে পড়ে বন্ধ মন্দিরে ভক্ত সমাগম। তাই জীবিকায় টান পরে জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন ওই মন্দিরের সাথে যুক্ত হাজারখানেক পরিবার। এদের কেউ যানবাহন, কেউ দশকর্মা, আবার কেউ কেউ বা বস্ত্র, মনোহারি, মুদিখানা, ফল সব্জী, হোটেল, চা টিফিনের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। এই মন্দিরে আগত বিপুল পরিমান ভক্তদের পূজাপাঠ সামলাতে কয়েকশো পুরোহিতও নিযুক্ত ছিল। কিন্তু লক ডাউনের পরিস্থিতিতে সবই গেছে থমকে। ভক্তদের ভীড়ে একসময় পা রাখা যেত না যে মন্দিরে, আজ সেখানে খাঁ খাঁ নিস্তবতা বিরাজ করছে। মন্দিরের সেক্রেটারী, পুরোহিত, দোকানদার সহ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবী অবিলম্বে তাদের জন্য কিছু ব্যবস্থা করুক রাজ্য সরকার। তার উপর সামনেই শ্রাবণ মাস, বাবার জন্মমাস। ওই সময়ও মন্দির বন্ধ রাখা হলে না খেয়ে মরতে হবে তাদের। ওদিকে করোনা সংক্রমন থেকেও আতঙ্ক রয়েছে মন্দিরের গাইডদের। তাদের অভিযোগ, এত বড় একটা মন্দির যেখানে লক্ষাধিক ভক্ত সমাগম হয়, সেখানে এই মন্দিরের সংগে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত প্রাত ছয় - সাতশ সদস্যদের ভ্যাক্সিন দেওয়ার কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না সরকার। দেশ বিদেশের ভক্তরা আসা যাওয়া করে এখানে, মন্দির খুললে তাদের মাধ্যেমে করোনা সংক্রমণ হওয়াটা অসম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে তাদের ভ্যাক্সিন দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন তারকেশ্বর মন্দিরের পরিচালন কমিটির সদস্যরা।