ভ্রমণ

বেহাল এবং জরাজীর্ণ অবস্থা তৈরি হয়েছে মালদার প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন কেন্দ্র গৌড়ের


মালদা, ১৬ মে :  বেহাল এবং জরাজীর্ণ অবস্থা তৈরি হয়েছে মালদার প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন কেন্দ্র গৌড়ের । এই ঐতিহাসিক নিদর্শন কেন্দ্রের কমপক্ষে ১৬ টি মূল্যবান স্থাপত্যে এখন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বন্ধ । যার ফলে পুরাতত্ত্ব বিভাগের অধীনে থাকা কর্মীরাও কর্মসংস্থান হারিয়েছে। পাশাপাশি পার্থেনিয়ামের জঙ্গল থেকে শুরু করে ঝোপঝাড়ে ভরে গিয়েছে গৌড়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন কেন্দ্রগুলি । করোনা অতিমারি এবং লকডাউনের জেরে এখন আর কয়েক মাস ধরে পর্যটকরাও এই নিদর্শন কেন্দ্রগুলিতে ঘুরতে আসছেন না।  সব মিলিয়ে এখন বেহাল দশা মালদার প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন ক্ষেত্র গৌড়ের। মা নিয়ে জেলার ইতিহাসবিদ থেকে শুরু করে শিক্ষক , অধ্যাপকদের মধ্যেও  চরম দুশ্চিন্তা ছড়িয়েছে । তাঁদের বক্তব্য কয়েকশো বছর পুরনো এইসব ঐতিহাসিক নিদর্শন ক্ষেত্রগুলির যদি রক্ষণাবেক্ষণও ঠিকঠাক না করা হয়, তাহলে অবিলম্বে তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। করোণা অতি মহামারীর মধ্যেও যাতে সরকার এই ঐতিহাসিক নিদর্শন কেন্দ্রগুলি দিকে সঠিক নজর দেয় এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয় সেই দাবি করা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, গৌড়ের ঐতিহাসিক নিদর্শনকেন্দ্র গুলির মধ্যে রয়েছে বারদুয়ারী, দাখিল দরওয়াজা, চামচিকা মসজিদ, ফিরোজ মিনার সহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন কেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘ অবহেলা আর প্রশাসনিক গাফিলতিতে আজ বিপন্ন গৌড়ের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের অধীনে থাকা ১৬ টি বহুমূল্যবান স্থাপত্য ।

এক সময় বাংলার রাজধানী এই গৌড়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তির আকর্ষণে দেখতে আজও ছুটে আসেন বহু দেশ বিদেশের পর্যটকরা। কিন্তু করোনা মহামারী জেরে আপাতত পর্যটকদের জন্য এই নিদর্শন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে রয়েছে।  এর পাশাপাশি দীর্ঘ অবহেলা আর প্রশাসনিক গাফিলতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ গৌড়ের ১৬ টি সৌধের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সৌন্দর্যায়নের কাজ।

কর্মহীন হয়ে পড়েছেন গৌড়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক সৌধের পাহারাদার থেকে শুরু করে আস্থায়ী কর্মীরা। করোণা সংক্রমণে জেরে এই প্রথম দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ এই সমস্ত ঐতিহাসিক সৌধের সৌন্দর্যায়নের কাজ। চারিদিকেই পার্থেনিয়াম এর ঝোপ ! আর আবর্জনার স্তুপ। এছাড়াও সর্বত্রই বিভিন্ন ধরনের গবাদিপশুর আশ্রয়স্থান হয়ে উঠেছে ঐতিহাসিক কেন্দ্রের কিছু জায়গাগুলি। আরেকদিকে করণা সংক্রমণে জেরে এখন  এইসব সৌধে কর্মরত শ্রমিকরা এখন কার্যত বেকার।

দীর্ঘ কুড়ি বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত এক শ্রমিক শরৎ চন্দ্র মন্ডল বলেন,  দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ গৌড়ের বিভিন্ন নিদর্শন কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সৌন্দর্যায়নের কাজ। ফলে চারিদিকেই জঞ্জালের স্তূপ আর ঝোপ-জঙ্গলে মুখ ঢাকছে ইতিহাস। 

আরেক কর্মী বিনয় মন্ডল বলেন, সরকারি উদাসীনতায় হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের জৌলুস। কাজ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছি আমরা। দ্রুত সরকারি উদ্যোগ না নেওয়া হলে একদিকে যেমন নষ্ট হবে বাংলার একসময়ের রাজধানী গৌড়ের ইতিহাস, অন্যদিকে অসহায় হয়ে পড়বে বহু পরিবার।

গৌড়ের এই সমস্ত সৌদ গুলি র তদারকি ও সৌন্দর্যায়নের কাজে নিযুক্ত রয়েছেন ৫৮ জন শ্রমিক। দীর্ঘদিন ধরেই এরা অবহেলার শিকার। বেতন পান না ঠিকমতো বলে অভিযোগ উঠেছে।

মালদা জেলা আইএনটিইউসি'র সভাপতি লক্ষ্মী গুহ বলেন, বহুবার এব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটে নি। ফলে মালদা তথা ভারত বিখ্যাত এই ঐতিহাসিক সৌদ গুলির ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটকেরা। এ ব্যাপারে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। না হলে আগামীতে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।

গৌড়ের ১৬ টি সৌধের রক্ষণাবেক্ষণে থাকা কর্মীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে গৌড়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক সৌধে সৌন্দর্যায়নের নিযুক্ত কর্মীদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। বহু আবেদন-নিবেদন করেও কোনো লাভ হয় নি। তাই এই বেহাল অবস্থা।

এই সৌধ গুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের এক সরকারি কর্মী সুভাষ চন্দ্র দাস জানিয়েছে, আমরা চোখের সামনেই দেখছি নষ্ট হচ্ছে ইতিহাস ! কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। সমস্ত বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।