রাজ্য

বাড়িতে ভাঙচুর, লুট সত্বেও ‘অধিকার’ ছাড়তে নারাজ যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী রিঙ্কু নস্কর

কলকাতা, ৬ মে  : ভোটে হেরে যাওয়ার পর তাঁর বাড়িতে ‘তৃণমূলের ছেলেরা’ ভাঙচুর, লুটপাট চালিয়েছে। তা সত্বেও পুর কোঅর্ডিনেটরের ‘অধিকার’ ছাড়তে নারাজ যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী রিঙ্কু নস্কর। 
বৃহস্পতিবার রিঙ্কু ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে জানান, “আমি ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর। যতদিন না পুর নির্বাচন হচ্ছে স্থানীয় কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব আমারই। বুধবার যখন চিত্তরঞ্জন কলোনীর ওয়ার্ড অফিসে যাই, আমাকে বাধা দেওয়া হয়। নানা আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। আমি জানিয়ে দিয়েছি, যতক্ষণ না অন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি আসবে দায়িত্ব ছাড়ব না।“
ভোটের ফল প্রকাশের একদিন বাদে যাদবপুরে কুমুদশঙ্কর রায় যক্ষা হাসপাতালের ভিতর আবাসনে রিঙ্কু নস্করের বাড়িতে ভাঙচুর, লুট হয়। দলের মিডিয়া হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এ খবর জানানো হয়।  রিঙ্কু এই প্রতিবেদককে জানান, বাড়ি ভাঙচুর করে তৃনমূল। সিলিং ফ্যানগুলি খুলে নিয়ে গিয়েছে। নগদ টাকা, গয়না সব লুট হয়েছে। পাশে কাকাদের ফ্ল্যাটেও হামলা হয়েছে।“
স্থানীয় তৃণমূলের এক নেতা অবশ্য বলেন, “রিঙ্কু কাউন্সিলর হয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী হিসাবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টায় ভোটের মুখে হঠাৎ বিজেপি হয়ে যান। বহুদিন ওয়ার্ড অফিসে আসেননি। খোঁজও করেননি। পুরসভার কাজ আমরাই দেখাশোনা করেছি। দলীয় স্তরে আলোচনার পর স্থানীয় ব্লক সভাপতিকে ১০২ ওয়ার্ডের পুর কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পরেও উনি জোর করে পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করছেন।“
বুধবার সকাল ১০ টা বেজে ৪৫ মিনিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, “ভারত ও বাংলা একটা কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে। এই পরিস্থিতিতেও লাগাতার ভোট পরবর্তী হিংসা চলছে।” পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আবেদন করেন তিনি। সেই আবেদনে যে কাজ হয়নি, তা বোঝাই যাচ্ছে।