কলকাতা

Kolkata : ডিগ্রি থাকেলেও বেকার, পদ ছেড়ে কাজের খোঁজে গুজরাট যাচ্ছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য

কলকাতা, ২৫ জুন : “নিজের দলের কর্মীদের নেত্রীর প্রতিশ্রুতিতে ভরসা নেই। বাংলা ছেড়ে কাজের সন্ধানে যাচ্ছেন গুজরাত।” শনিবার এই ভাষাতেই টুইটারে লিখলেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। অগ্নিমিত্রা লিখেছেন, ”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথায় কথায় বলেন এই রাজ্যকে গুজরাত হতে দেবেন না। এরাজ্যের যুব সমাজকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করে নিম্নমানের রাজনীতি। শামুকতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য অমিত ভট্টাচার্যের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।স্নাকতোত্তর ডিগ্রি রয়েছে যুবকের। কাজ নেই। তাই তিনি ঠিক করেছেন, পঞ্চায়েত সদস্যের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে গুজরাতের সুরাতে যাবেন বস্ত্রশিল্পে কাজ করার জন্য। পশ্চিমবঙ্গে একশো দিনের কাজের নামে যে ধাপ্পা চলছে, এই যুবকের রাজ্য ছাড়ার ইচ্ছে, তা প্রমাণ করে।“ সংসারে চলছে অনটন। এমনকি কাজ একপ্রকার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তিন বছর ধরে অসুস্থতার কারণে বাবা গৃহবন্দী থাকার কারণে খরচ বেড়ে চলেছে আর এই অবস্থায় অবশেষে পঞ্চায়েত সদস্যের পদ ছেড়ে পরিযায়ী শ্রমিক হওয়ার পথে অগ্রসর হতে চলেছেন তৃণমূল নেতা!। শামুকতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য অমিত ভট্টাচার্যের এই সিদ্ধান্তটি বর্তমানে জানাজানি হওয়ার পরেই শাসকদলকে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে বিজেপি। তবে আচমকা অন্য রাজ্যে চাকরি করতে যাওয়ার ভাবনা এলো কোথা থেকে, এ বিষয়ে অমিত ভট্টাচার্য জানান, “তিন বছর ধরে বাবার শরীর খুব খারাপ। আমাদের একটি জিম ছিল, কিন্তু করোনার সময় থেকে এটি একপ্রকার বন্ধ রয়েছে। মানুষের যাতায়াতও নেই। তাই সংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। আমার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে, তবে এলাকাতে কোন কাজ নেই। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সুরাটে গিয়ে বস্ত্রশিল্পের যদি কোনরকম কাজ পাওয়া যায়, সেটাই করব।” অমিতের রাজনৈতিক কেরিয়ারও বেশ চমকপ্রদ। বিজেপি দলের হয়ে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে পঞ্চায়েত ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। এরপরে অবশ্য পদ্মফুল ছেড়ে তৃণমূল শিবিরে যোগদান করেন অমিত। তবে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে গুজরাটে রওনা দেওয়ার পর পঞ্চায়েতের দায়িত্ব কে সামলাবে, সেই প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আর এর মাঝেই শাসক দলকে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি।