কলকাতা

Airport : রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর করতে ভাঙড়ে চলছে জমি দেখার কাজ

কলকাতা, ২১ জানুয়ারি  : কলকাতার কাছেই হতে চলেছে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর। এর জন্য জমি দেখার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। সম্প্রতি দমদমে নেতাজি সুভাষ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপর অত্যাধিক চাপ বেড়েছে। যে কারণে কাছাকাছি আরেকটি বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে একসঙ্গে অনেকটা জমি পাওয়া যেতে পারে।

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পরে অবশেষে কেন্দ্রের প্রস্তাবে সুর মেলালো রাজ্য সরকার। দমদমে থাকা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপরে চাপ কমাতে কলকাতার পাশেই কোথাও বিকল্প বিমানবন্দর গড়ে তোলার যে প্রস্তাব কেন্দ্র সরকার রাজ্য সরকারকে তাতে এবার শিলমোহর দিতে চলেছে নবান্ন। দমদমের বিকল্প তথা বাংলার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিমানবন্দর গড়ে তোলার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় জমি খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব এইচ কে দ্বিবেদী দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে এক চিঠিতে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশে দিয়েছেন। সেইমতো জমি খোঁজার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

দেশের মহানগরগুলি থেকে দেশের অনান্য শহরে যাওয়ার বিমানের সংখ্যা গত এক দশকে অনেকটাই বেড়েছে। সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে যাত্রীসংখ্যাও। এই অবস্থায় দেশের বড় শহরগুলিতে বিমানবন্দরের যাত্রী ভিড় ও বিমানের চাপ কমাতে পাশেই বিকল্প এক বিমানবন্দর গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে কেন্দ্র সরকার। তবে শর্ত হিসাবে থাকছে ওই বিকল্প বিমানবন্দর হতে হবে মূল বিমানবন্দরের ৪০ কিমির মধ্যেই। যাতে যাত্রীদের এক বিমানবন্দর থেকে অন্য বিমানবন্দরে যেতে বেশি সময় না লাগে। অনান্য রাজ্যে এই বিকল্প বিমানবন্দর গড়ে তুলতে কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কলকাতার ৪০ কিমির মধ্যে একলপ্তে প্রায় ৬ হাজার একর জমি খুঁজে পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তার ওপর রাজ্য সরকারের নীতিই হল জমি অধিগ্রহণ না করা। তাই নবান্নের তরফ থেকে কেন্দ্র সরকারকে বিকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছিল দুর্গাপুরের অন্ডাল বিমানবন্দরকে কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা হোক।কিন্তু কলকাতা থেকে দুর্গাপুরের দূরত্ব ১০০কিমির বেশি হওয়ায় সেই প্রস্তাবে সায় দিচ্ছিল না কেন্দ্র সরকার।

কিন্তু এই ছবিটাই বদলে গিয়েছে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পরে পরেই। শিল্প নিয়ে অস্বস্তি কাটাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী সহ তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁরা এ রাজ্যকে মডেল রাজ্য হিসাবে তুলে ধরতে চাইছেন গোটা দেশের সামনে। আর সেই লক্ষ্যেই শিল্পে বিনিয়োগ টানতে ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রের দ্বিতীয় বিমানবন্দর গড়ার শর্ত নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছে নবান্ন।এমনিতেই দমদম বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবার ব্যবস্থা কার্যত সর্বোচ্চ বিস্তার লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক উড়ান কম থাকলেও কার্যত বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে দেশের মধ্যে নানা শহরে যাওয়ার উড়ানের সংখ্যা। যাত্রীসংখ্যার দিক দিয়েও এখন প্রতি বছরই নয়া নয়া রেকর্ড গড়ছে এই বিমানবন্দর। সেই সঙ্গে সামনে এসেছে এই তথ্যও যে যাত্রীধারন ক্ষমতার সর্বোচ্চ সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছে কলকাতা বিমানবন্দর। এখন করোনার আবহে বিমান চলাচলের সংখ্যা কম থাকলেও করোনার আগেই ব্যস্ত সময়ে দমদমের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ভিড়ের চাপে পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।

কেন্দ্র জানিয়েছে, নতুন বিমানবন্দরে যাতে ৩কিমি লম্বা রানওয়ে গড়ে তোলা যায় সেই কথা মাথায় রেখেই রাজ্যকে জমি খুঁজতে হবে। কেননা কেন্দ্র চাইছে এই বিমানবন্দর দিয়ে বোয়িং ৭৭৭-এর মতো বড়সড় যাত্রীবাহী বিমান চালাতে। রাজ্য সরকার চাইছে ভাঙড়ের আশেপাশে এই বিমানবন্দর গড়ে তুলতে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের মাথায় রয়েছে, বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে এক সঙ্গে অনেক বিমান রাখার বিষয়টিও।তৃণমূলের মুখপত্র জানাচ্ছে, সেই মতো জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী।